1. masudkhan89@yahoo.com : admin :
  2. banglarmukhbd24@gmail.com : news editor : news editor

দুই যুগে ১০৬ মিটার নিচে পানির স্তর, সংকটের ঝুঁকিতে ঢাকা

  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৪ বার সংবাদ দেখেছেন

বিএম ডেক্স।। ঢাকার পরিচয় অনেকভাবেই দেওয়া যায়। যানজট, ঘনবসতি, বায়ুদূষণসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত এই রাজধানী। সম্প্রতি এক গবেষণায় জলবায়ু সহনশীলতার দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ১০টি শহরের তালিকাতেও ঢাকার নাম উঠে এসেছে। এর সঙ্গে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নেমে যাওয়ার বিষয়টি। গত কয়েক দশকে ঢাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ার প্রবণতা এখন উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে রাজধানী তীব্র পানিসংকটের মুখোমুখি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা

তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত দুই যুগে ঢাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ার চিত্র বেশ আশঙ্কাজনক। ২০০২ সালে ঢাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ছিল ৪৫ দশমিক ৬ মিটার। ২০০৩ সালে তা নেমে দাঁড়ায় ৪৮ মিটারে, ২০০৪ সালে ৫১ মিটার, ২০০৫ সালে ৫৪ দশমিক ২ মিটার, ২০০৬ সালে ৫৭ মিটার এবং ২০০৭ সালে ৬০ মিটারে।

বিশেষ করে সাম্প্রতিক পাঁচ বছরের চিত্র আরো উদ্বেগজনক। ২০২০ সালে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ছিল ৯৯ মিটার গভীরে। ২০২১ সালে তা ১০২ দশমিক ৮০ মিটার, ২০২২ সালে ১০৪ দশমিক ৮০ মিটার, ২০২৩ সালে ১০৬ দশমিক ৮ মিটার এবং ২০২৪ সালে ১০৬ মিটারে পৌঁছায়।

এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ১১৫ মিটার বা তারও বেশি গভীরে নেমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে মিরপুর, পল্লবী, কাফরুল, তুরাগ ও ক্যান্টনমেন্টের কিছু এলাকায় পানির স্তর ভূ-পৃষ্ঠের প্রায় ৯২ মিটার নিচে নেমে গেছে। মিরপুরসহ কয়েকটি এলাকায় পানি সরবরাহ করতেও হিমশিম খাচ্ছে রাজধানীর পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন সংস্থা ঢাকা (ওয়াসা)।

বর্তমানে ঢাকা ওয়াসা মোট পানির প্রায় ৭০ শতাংশ ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে উত্তোলন করছে। আর ভূ-উপরিস্থ উৎস থেকে উত্তোলন করছে ৩০ শতাংশ। তবে এই চিত্র বদলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা ওয়াসা। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে ভূ-উপরিস্থ উৎস থেকে ৮০ শতাংশ পানি সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী কাজও শুরু হয়েছে।

রাজধানীতে ঢাকা ওয়াসার দায়িত্বাধীন বর্তমান এলাকা প্রায় ৪০১ বর্গকিলোমিটার। আবাসিক ও বাণিজ্যিক মিলিয়ে সংযোগ রয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৬ হাজার। দৈনিক পানির চাহিদা ২৮০ থেকে ২৯০ কোটি লিটার। যদিও ঢাকা ওয়াসা দৈনিক প্রায় ৩২০ কোটি লিটার পানি উৎপাদনের সক্ষমতার কথা দাবি করে। তবে এ সক্ষমতার দাবি থাকলেও প্রতি শুষ্ক মৌসুমে রাজধানীতে তীব্র পানি সংকট দেখা দেয়।

বর্তমানে ঢাকা ওয়াসা পাঁচটি পানি শোধনাগার থেকে প্রায় ৯০ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করে। পাশাপাশি ১ হাজার ৩২৮টি গভীর নলকূপের মাধ্যমে পাওয়া যায় প্রায় ২২০ কোটি লিটার পানি।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং ক্রমাগত পানি উত্তোলনের কারণে পরিস্থিতি আরো জটিল হতে পারে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে ঢাকার পানির স্তর ১২০ মিটার পর্যন্ত নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, রাজধানীর ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া পরিবেশের জন্য নেতিবাচক ঘটনা। এর ফলে ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে বিষয়টি এখনো গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণিত নয়। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, নতুন সরকার এরই মধ্যে এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে। সে অনুযায়ী ভূ-উপরিস্থ উৎসের পানির উৎপাদন বাড়াতে কাজ চলছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ভূ-উপরিস্থ উৎস থেকে ৮০ শতাংশ পানি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছে ঢাকা ওয়াসা।

এই লক্ষ্যে সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার ফেজ-৩ ও পদ্মা পানি শোধনাগার ফেজ-২ চালুর জন্য কাজ চলছে। পাশাপাশি গন্ধবপুর পানি শোধনাগারের পানি দ্রুত ঢাকায় আনার লক্ষ্যে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতি থেকে রেহাই পেতে পানি সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি পানির চাহিদা ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষক ও নগর-পরিকল্পনাবিদ ড. ফয়সাল কবির। তিনি বলেন, পানি সরবরাহ বাড়ানোর চেয়ে পানির চাহিদা ব্যবস্থাপনা কতটা জরুরি, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে। ঢাকায় পানির চাহিদা কয়েক দশক ধরে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, পরিবারসংখ্যা বৃদ্ধি, বসতি সম্প্রসারণ, বাণিজ্যিক কার্যক্রম, শিল্পায়ন এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন—সবকিছুই পানির ব্যবহার বাড়িয়েছে

তিনি বলেন, পরিকল্পনা যদি শুধু নতুন পানির উৎস খোঁজার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে শহর বারবার একই সংকটে পড়বে। আজ নতুন প্ল্যান্ট, কাল আবার ঘাটতি—এভাবে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

তার মতে, পানি চাহিদা ব্যবস্থাপনার অর্থ হলো অপ্রয়োজনীয় পানির অপচয় কমানো, লিকেজ নিয়ন্ত্রণ, ন্যায্য ও কার্যকর মিটারিং ব্যবস্থা চালু করা, শিল্প খাতে সাশ্রয়ী পানি ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং নতুন আবাসিক ভবনে পানিসাশ্রয়ী নকশা বাধ্যতামূলক করা।

 

সামাজিক যোগাযোগ এ শেয়ার করুন

একই বিভাগের আরও সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২১ বাংলার মুখ বিডি
Site Customized By NewsTech.Com