স্পোর্টস ডেস্ক//নতুন কোচ। তার ওপর মেজর লিগ সকারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড দর্শক। তাতে আলো ছড়িয়েছেন লিওনেল মেসি। তার জোড়া গোলে কলোরাডো র্যাপিডসকে ৩-২ গোলে হারিয়ে নতুন কোচকে জয় উপহার দিয়েছে ইন্টার মায়ামি।
আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী মেসিকে দেখতে দর্শকের বিপুল আগ্রহের কারণে ম্যাচটি ডেনভারের বিশাল এনএফএল স্টেডিয়ামে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তাতে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও ঘরের মাঠের দল কলোরাডো দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ালে ম্যাচটি তাদের দিকেই ঝুঁকছে বলে মনে হতে থাকে। কিন্তু সেখানে বাধা হয়ে দাঁড়ান মেসি! এর আগে পেনাল্টি থেকে গোল করা এই আর্জেন্টাইন ম্যাচ শেষ হওয়ার প্রায় ১০ মিনিট বাকি থাকতে রদ্রিগো দি পলের ডান প্রান্ত থেকে বাড়ানো থ্রু বল ধরে দৌড়ে যান। বক্সে ঢুকে তিন ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে বাম পায়ে অসাধারণ শটে বল জালে জড়ান তিনি।
এই জয়ে ইন্টার মায়ামির নতুন কোচ হিসেবে অভিষেকেই জয় পেয়েছেন মেসির দীর্ঘদিনের বন্ধু গিয়ের্মো হোইয়োস। মঙ্গলবার ব্যক্তিগত কারণে হাভিয়ের মাসচেরানো ক্লাব ছাড়ার পর দায়িত্ব নেন তিনি। মাত্র চার মাস আগে মাসচেরানোর অধীনেই ক্লাবটি তাদের প্রথম এমএলএস কাপ জিতেছিল।
অভিষেকে জয় পেয়ে খুশি হোইয়োস জানান, ‘আমাদের দলে ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় রয়েছে, যিনি একাই ম্যাচের গতি বদলে দিতে পারেন।’
৬২ বছর বয়সী এই কোচ দলে খুব বেশি পরিবর্তন আনেননি। ইনজুরি থেকে সেরে ওঠা তাদেও আলেন্দের পরিবর্তে জার্মান বেরতেরামে দলে জায়গা পান।
শুরুটা ধীরগতির ছিল মায়ামির। তবে সুযোগ আসে দ্রুতই। মায়ামির চাপের মুখে নিজেদের ডিফেন্স থেকে বল বের করতে গিয়ে বক্সে ইয়ানিক ব্রাইটকে ফাউল করেন জশ আতেনসিও। তাতে পেনাল্টি পায় মায়ামি। দীর্ঘ ভিএআর পরীক্ষার পর ১৮ মিনিটে মেসি শান্তভাবে বল জালে জড়ান।
বল দখলে এগিয়ে থাকলেও কলোরাডো আক্রমণে তেমন হুমকি তৈরি করতে পারছিল না। প্রথমার্ধের শেষ দিকে যোগ হওয়া সময়ে নিজেদের অর্ধে বল হারালে মেসির এক চমৎকার ফ্লিক থেকে মাতেও সিলভেত্তির ক্রসে হেড করে ব্যবধান বাড়ান বেরতেরামে।
অবশেষে র্যাপিডস ঘুরে দাঁড়ায় দ্বিতীয়ার্ধে। ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই নিজেদের অর্ধ থেকে বল নিয়ে একক প্রচেষ্টায় ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে জোরালো শটে গোল করেন রাফায়েল নাভারো।
এরপরই কোচ ম্যাট ওয়েলস আক্রমণভাগে পরিবর্তন এনে ড্যারেন ইয়াপিকে নামান। সিদ্ধান্তটি দ্রুতই ফল দেয়। চার মিনিটের মধ্যেই লুকাস হ্যারিংটনের নিখুঁত পাসে দৌড়ে গিয়ে সমতা ফেরান ইয়াপি। শেষ পর্যন্ত অবশ্য মেসি জাদুতে কলোরাডোর প্রত্যাবর্তন আর সম্ভব হয়নি। এই জয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে ইন্টার মায়ামি।