বাংলা রিপোর্ট//কোনও অপরাধ শুধু সরাসরি অংশগ্রহণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, অপরাধ সংঘটনের পক্ষে ন্যারেটিভ তৈরি বা সহায়ক ভূমিকা রাখার বিষয়ও আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থায় গুরুত্ব পায় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী ন্যুরেমবার্গ ও টোকিও ট্রায়ালের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, “এসব বিচারেও এমন ভূমিকা বিচারের আওতায় আনা হয়েছিল।”
মঙ্গলবার (৫ মে) সচিবালয়ের তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “বন্দি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ নয়, বরং নির্দিষ্ট হত্যা মামলার অভিযোগে তাদের আটক রাখা হয়েছে।” তিনি বলেন, “কোনও ব্যক্তিকে ভুল অভিযোগে অভিযুক্ত করা হবে না এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
তিনি বলেন, “এই বিষয়ে বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছে, তাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ প্রযোজ্য কিনা।” এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচার হয়েছে। জুলাইয়ের ঘটনাকে সরাসরি গণহত্যা বলা না গেলেও সেখানে ‘ক্রাইমস এগেইনস্ট হিউম্যানিটি’ সংঘটিত হয়েছে, যা ছিল একটি ধারাবাহিক ও পদ্ধতিগত প্রক্রিয়ার অংশ।”
তবে অভিযোগের যথার্থতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “যে অভিযোগে যারা গ্রেফতার আছেন তা অবশ্যই সুনির্দিষ্ট ও প্রমাণযোগ্য হতে হবে।” ভুল অভিযোগে কাউকে অভিযুক্ত করা উচিত নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ডা. জাহেদ জানান, এই বিষয়ে নোয়াবের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। তবে এটি সম্পূর্ণ একটি বিচারিক প্রক্রিয়া হওয়ায় সরকার এককভাবে সব সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। বিচার বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করেই পদক্ষেপ নিতে হবে।
তিনি বলেন, “বর্তমান সরকারের আমলে যেন কেউ অন্যায়ভাবে আটক না থাকেন বা অন্যায় বিচারের মুখোমুখি না হন, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হবে।” তিনি আরও বলেন, “কারাগারের বাইরে থাকা অনেক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও মামলা রয়েছে। সেসব মামলাও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”