বাংলা রিপোর্ট//সরকার রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য করতে চায় না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, “জাতীয় ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। মতভেদ থাকতে পারে, থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু, দেশের স্বার্থে সবার আগে বাংলাদেশ। তাই জনগণের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি সহজতর করা, সরকারি সেবাকে হয়রানিমুক্ত করা ও সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।”
রবিবার (৩ মে) দুপুরে রাজধানীর ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের তাগিদ দেন। বলেন, “ব্যয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। একইসঙ্গে প্রয়োজনের অতিরিক্ত আইনকানুন ও জটিলতাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার না করে বাস্তবসম্মত, কার্যকর ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। যাতে জনগণ সময়মতো সরকারের প্রতিটি কর্মসূচির প্রত্যাশিত সুফল লাভ করতে পারে।”
তারেক রহমান বলেন, “সততা, মেধা এবং দক্ষতাই হবে জনপ্রশাসনে নিয়োগ, বদলি কিংবা পদায়ন। স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে শূন্য পদে জনবল নিয়োগ, শক্তিশালী পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠন, বেসরকারি সার্ভিস রুলস প্রণয়নসহ সর্বত্র প্রশাসনিক কাঠামোর কার্যকারিতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।”
তিনি বলেন, “বিশ্ব এখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের যুগে প্রবেশ করেছে। তাই বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদেরকেও সময়ের সঙ্গে মোকাবিলায় নিজেদেরকে প্রস্তুত রাখতে হবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে জনপ্রশাসনের কার্যক্রমকে আরও সময়োপযোগী, দক্ষ, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক করা যায় সেটি নিশ্চিত করবে।”
সম্মেলনের উদ্দেশের কথা জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, “এ সম্মেলন কেবল আনুষ্ঠানিক মতবিনিময়ের জায়গা নয় বরং এটি এমন একটি পরিসর, যেখানে মাঠ প্রশাসনের বাস্তব অভিজ্ঞতা, সীমাবদ্ধতা, প্রয়োজন এবং উদ্ভাবনী চিন্তা সরাসরি জাতীয় পর্যায়ের সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় প্রতিফলিত হতে পারে। আপনারা মাঠ পর্যায়ে সরকারের প্রশাসনিক দূত। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা জরুরি।”
তিনি বলেন, “ইচ্ছে মত যাতে কেউ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়াতে না পারে কিংবা মজুতদারি বা কারসাজির মাধ্যমে বাজারে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে না পারে, কোনও ধরনের সিন্ডিকেট বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি অপচেষ্টা করতে না পারে এ জন্য নিয়মিত বাজার তদারকি জোরদার রাখতে হবে। বাজার ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সামাজিক স্থিতি ও জনগণের আস্থার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।”
কৃষক যেন তার উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পায় সে তাগাদা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, “তাদের (কৃষক) জন্য সার, বীজ, সেচ, সংরক্ষণ সুবিধা এবং বাজারজাতকরণের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। কৃষিকে শুধু উৎপাদনের বিষয় হিসেবে নয়, বরং গ্রামীণ জীবিকা, খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, গ্রামীণ জনগণের শহরমুখীতা হ্রাস এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার নিয়ামক হিসেবে দেখতে হবে।”