1. masudkhan89@yahoo.com : admin :
  2. banglarmukhbd24@gmail.com : News Editor : News Editor
রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৬:৩২ অপরাহ্ন

আজ শুরু ডিসি সম্মেলন: ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে নির্দেশনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী

সাংবাদিক
  • আপডেট সময় : রবিবার, ৩ মে, ২০২৬
  • ৩ বার সংবাদ দেখেছেন

বাংলা রিপোর্ট//আজ শুরু ডিসি সম্মেলন: ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে নির্দেশনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী
চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন আজ রবিবার (৩ মে) থেকে শুরু হচ্ছে। সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধন হবে।

মাঠ প্রশাসনে সরকারের মুখপাত্র হিসেবে এবারের সম্মেলনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকারপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার সরকারের জন্য ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করলেও ডিসিদের জন্য এখনও নির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তবে এবারের সম্মেলনে সে দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে নির্বাচনের আগে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন প্রাধান্য পাবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে জনকল্যাণমুখী ইশতেহার ও রাষ্ট্র মেরামতের রূপরেখা ঘোষণা করেছিল বিএনপি। এই ইশতেহারের মূল লক্ষ্য দুর্নীতি নির্মূল, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং ৩১ দফার মাধ্যমে রাষ্ট্র পুনর্গঠন। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে মাঠ প্রশাসনকে প্রস্তুত থাকতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ডিসি সম্মেলনের প্রাক-প্রস্তুতি ও খসড়া কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি তারেক রহমানের প্রথম ডিসি সম্মেলন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর বিভিন্ন অধিবেশনে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবরা ডিসি এবং বিভাগীয় কমিশনারদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন। পাশাপাশি সরকারের নীতি ও অগ্রাধিকারমূলক কাজ মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের বিষয়ে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ পাবেন ডিসিরা।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, চার দিনব্যাপী এই সম্মেলন শেষ হবে আগামী ৬ মে। এতে আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ও ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসকরা অংশ নেবেন। ডিসিদের কাছ থেকে পাওয়া এক হাজার ৭২৯টি প্রস্তাবের মধ্যে ৪৯৮টি প্রস্তাব এবারের সম্মেলনে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হুমায়ুন কবির।

এবারের সম্মেলনের প্রধান আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, শিক্ষার মানোন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার কল্যাণ, পরিবেশ সংরক্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, ভূমি ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ত্রাণ ও পুনর্বাসন, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ও ই-গভর্ন্যান্স।

প্রাপ্ত প্রস্তাবগুলোতে জনসেবা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, জনদুর্ভোগ কমানো, রাস্তাঘাট ও সেতু নির্মাণ, পর্যটনের বিকাশ, আইন ও বিধিমালা সংশোধন এবং জনস্বার্থ সংরক্ষণ বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পেয়েছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগসংক্রান্ত সর্বোচ্চ ৪৪টি প্রস্তাব এসেছে।

সম্মেলন চলাকালে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকরা রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করবেন। এছাড়া প্রধান নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের সঙ্গে কার্য-অধিবেশন রয়েছে। মোট ৩৪টি অধিবেশন ও কার্য-অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে ৩০টি কার্য-অধিবেশন।

প্রতি বছর সাধারণত জুন-জুলাইয়ে ডিসি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও করোনা মহামারির কারণে এ ধারায় পরিবর্তন এসেছে। ২০২০ ও ২০২১ সালে সম্মেলন হয়নি। পরবর্তী বছরগুলোতে জানুয়ারি ও মার্চে বিভিন্ন সময় এই সম্মেলন আয়োজন করা হয়।

এবারের সম্মেলনে মাঠ প্রশাসনকে আরও শক্তিশালী করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মন্ত্রণালয় ও মাঠ প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করে উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়েও জোর দেওয়া হবে।

রাষ্ট্র মেরামতে ঘোষিত ৩১ দফা রূপরেখা অনুযায়ী সংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পাশাপাশি অর্থনীতি ও সমাজসংক্রান্ত নীতি সংস্কারের বিষয়গুলোও আলোচনায় আসবে বলে জানা গেছে।

কুষ্টিয়া, পিরোজপুর ও রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসকরা জানিয়েছেন, নতুন সরকারের সামনে পাঁচ বছরের রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব থাকায় মাঠ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর প্রস্তাবনা উপস্থাপন জরুরি। তারা সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও ঘোষিত কর্মপরিকল্পনাকে সামনে রেখে প্রস্তাব তৈরি করেছেন।

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররফ হোসাইন ভূঁইয়া বলেন, মাঠপর্যায়ে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে ডিসিরা জনগণ ও সরকারের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করেন। তাদের প্রস্তাবনা ও সরকারের নির্দেশনার সমন্বয়ে কার্যকর কর্মপরিকল্পনা তৈরি হলে এর সুফল সাধারণ মানুষ পাবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব ড. নাসিমুল গনি জানিয়েছেন, সম্মেলনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এটি বর্তমান সরকারের প্রথম ডিসি সম্মেলন হওয়ায় ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।

সামাজিক যোগাযোগ এ শেয়ার করুন

একই বিভাগের আরও সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২১ বাংলার মুখ বিডি
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট @ ইজি আইটি সল্যুশন