1. masudkhan89@yahoo.com : admin :
  2. banglarmukhbd24@gmail.com : News Editor : News Editor
মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ০৭:৪৪ অপরাহ্ন

মিরপুরে আগুন: ঢাকা মেডিক্যালে স্বজনদের আহাজারি

সাংবাদিক
  • আপডেট সময় : বুধবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২১৬ বার সংবাদ দেখেছেন

বাংলা রিপোর্ট//রাজধানীর মিরপুর রূপনগর শিয়ালবাড়ি এলাকায় কেমিক্যাল গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উদ্ধার করা ১৬ জনের মরদেহ মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে আনা হয়েছে। বুধবার সকাল থেকেই নিখোঁজদের স্বজনরা মর্গে ভিড় জমিয়েছেন। কারও হাতে নিখোঁজের ছবি, কেউ বা মোবাইল ফোনে ছবি দেখিয়ে জানতে চাইছেন, তার ভাই বা বোন কী ওখানে আছে?

ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা সদর-১ জোনের কমান্ডার মো. এনামুল হক বলেন, মিরপুর রূপনগরে অগ্নিকাণ্ডে উদ্ধার হওয়া ১৬টি মরদেহ সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশের উপস্থিতিতে ঢামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী কার্যক্রম আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও থানা-পুলিশ সম্পন্ন করবে।

এর আগে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রূপনগরের শিয়ালবাড়িতে একটি কেমিক্যাল গোডাউনে লাগা আগুন বিস্ফোরণ করে পাশের একটি পোশাক কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সেখানে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করে রাতেই ঢামেক হাসপাতাল মর্গে পাঠান।

মর্গের সামনে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো হাসপাতাল প্রাঙ্গণ। নিখোঁজদের খোঁজে ছুটে আসা অনেকেই মরদেহের তালিকা হাতে দাঁড়িয়ে কাঁদছেন। কেউ কেউ মরদেহ শনাক্ত করে ভেঙে পড়েছেন।

নিহত মো. রবিনের (১৯) বড় ভাই তাইজুল ইসলাম কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, রবিন সকালে কাজে গিয়েছিল। বলেছিল দুপুরে আসবে। দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলো, কিন্তু আর ফিরে এলো না। এখন তার ঠান্ডা লাশটা দেখতে হবে— এটা ভাবতেই পারছি না।

মাহিরা আক্তারের (১৪) বোন সানজিদা বলেন, আমাদের বাবা নেই, মা অসুস্থ। মাহিরা ছোট থেকেই কষ্ট করছে। চাকরি করে সংসার চালাতে সাহায্য করতো। ১৪ বছর বয়সেই ওর জীবন শেষ হয়ে গেলো। কী দোষ ছিল তার?

নার্গিস আক্তারের (১৮) বাবা ওয়াজিউল্লাহ বলেন, এইচএসসি পাস করেছে, মেয়ে চাকরি পেয়ে খুশিতে ছিল। বলেছিল, বাবা, সংসারের ভার কিছুটা আমি নেবো। ১৩ দিন হলো কাজে যোগ দিয়েছে। আজই তার জানাজা হবে।

নেত্রকোনার কৃষক সনু মিয়া, যিনি নিহত মুনা আক্তারের (১৭) বাবা, ঢামেক হাসপাতাল মর্গের সামনে বসে বলেন, মুনা বলেছিল, কিছুদিন পর বাড়ি আসবে। এখন ও ফিরবে লাশ হয়ে। গরিবের মেয়েরা শুধু আগুনেই পুড়ে মরছে।

আরেক নিহত মুক্তা আক্তারের (৩৫) ভাই আবুল দেওয়ান বলেন, তিন সন্তান রেখে গেলো আমার বোন। সংসারের কষ্টে গার্মেন্টে চাকরি করতো। এখন সন্তানদের কী হবে?

একইভাবে লালমনিরহাটের আবদুল মান্নান নিজের মেয়ে মৌসুমি আক্তারের (২০) লাশ শনাক্ত করে কান্না চেপে রাখতে পারলেন না। বললেন, মৌসুমি বলেছিল, কিছুদিনের মধ্যে টাকা পাঠাবে। এখন আর টাকা নয়, মেয়ের লাশ নিতে এসেছি।

সামাজিক যোগাযোগ এ শেয়ার করুন

একই বিভাগের আরও সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২১ বাংলার মুখ বিডি
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট @ ইজি আইটি সল্যুশন