ক্রীড়া ডেস্ক : কখনো কখনো ইতিহাসের জন্য ২০ মিনিটই যথেষ্ট! জর্ডানের বিপক্ষে ৬০ মিনিটে মাঠে নামার পর মাত্র ২০ মিনিটের ব্যবধানে ফ্রি-কিক থেকে গোল করে বিশ্বকাপে নতুন রেকর্ড গড়লেন লিওনেল মেসি। তার জাদুতে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচেও জয় (৩-১) ধরে রাখল আর্জেন্টিনা।
লিওনেল মেসিকে শুরুর একাদশে না দেখে ডালাস স্টেডিয়ামে উপস্থিত আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে কিছুটা বিস্ময় দেখা গেলেও মাঠের খেলায় তার কোনো প্রভাব পড়তে দেয়নি বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কোচ লিওনেল স্কালোনির রদবদল করা একাদশ দারুণ ছন্দে খেলেছে। পরে বদলি হিসেবে নেমে ফ্রি-কিক থেকে ইতিহাস গড়া গোল করেন লিওনেল মেসি। জিওভানি লো সেলসো ও লাউতারো মার্তিনেসের গোলের সঙ্গে মেসির রেকর্ড গড়া গোল যোগ হয়ে জর্ডানকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপপর্বে শতভাগ সাফল্য নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে আলবিসেলেস্তেরা।
আগামী ৪ জুলাই মায়ামিতে শেষ ষোলোর ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে।
ডালাস স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। ষষ্ঠ মিনিটে হুলিয়ান আলভারেসের পাস থেকে বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে লো সেলসোর গোলটি বাতিল হয়। তবে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি তাকে। ১৯তম মিনিটে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে ফাউলের পর পাওয়া ফ্রি-কিক থেকে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত বাঁকানো শটে জর্ডানের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষককে পরাস্ত করে দলকে এগিয়ে দেন লো সেলসো।
প্রথম গোলের পরও আক্রমণের ধার বজায় রাখে আর্জেন্টিনা। ৩১তম মিনিটে ভিএআরের সহায়তায় পাওয়া পেনাল্টি থেকে লাউতারো মার্তিনেস গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন। এর আগে মার্কোস সেনেসির ওপর ফাউলের ঘটনাটি পর্যালোচনা করে স্পট-কিকের নির্দেশ দেন রেফারি। শান্ত মাথায় পেনাল্টি থেকে গোল করে বিশ্বকাপে নিজের গোলের খরা কাটান লাউতারো।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে জর্ডান। ৪৮তম মিনিটে লো সেলসোর আরেকটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। এরপর ৫৫তম মিনিটে হাদ্দাদের নিচু ক্রস থেকে মুসা আল-তামারি গোল করে ব্যবধান কমান। এই গোলের মাধ্যমে নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপে গ্রুপপর্বের প্রতিটি ম্যাচেই গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করে জর্ডান।
জর্ডানের গোলের পর ম্যাচে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হলে ৬০তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন লিওনেল মেসি। তার মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গে ডালাস স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে শুরু হয় দর্শকদের উচ্ছ্বাস। ম্যাচের ৮০তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে পাওয়া ফ্রি-কিক থেকে চমৎকার নিচু শটে জর্ডানের গোলরক্ষককে পরাস্ত করে দলের তৃতীয় গোলটি করেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।
এই গোলের মাধ্যমে নতুন ইতিহাস গড়েন মেসি। বিশ্বকাপে টানা সাত ম্যাচে গোল করার অনন্য কীর্তি গড়ে তিনি ভেঙে দেন ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন ও ব্রাজিলের জাইরজিনহোর যৌথ রেকর্ড। এর আগে দুজনই টানা ছয় ম্যাচে গোল করার নজির গড়েছিলেন। একই সঙ্গে ২০২৬ বিশ্বকাপে এটি মেসির ষষ্ঠ গোল এবং বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৯-এ।
শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে গ্রুপপর্বে টানা তিন ম্যাচেই জয়ের রেকর্ড ধরে রাখে আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা চাপে পড়লেও মেসির রেকর্ড গড়া গোল এবং দলের আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স নকআউট পর্বের আগে নতুন করে আশাবাদী করে তুলেছে।