বাংলা রিপোর্ট//প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, “দেশে জঙ্গি নাই এটা বলা যাবে না। দেশে জঙ্গি আছে। তবে, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে জঙ্গি হিসেবে যা উপস্থাপন করা হয়েছে, তা ছিলো সরকারে টিকে থাকার একটা প্রক্রিয়া।”
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশে জঙ্গিবাদ পরিস্থিতি নিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “দেশে জঙ্গি সম্পর্কে দুটি চরম ধারণা রয়েছে, একটি হলো দেশ জঙ্গিতে ভরে গেছে, আরেকটি হলো দেশে কোনও জঙ্গি নেই। সরকার মনে করে দুটোই ভুল। সমাজের একটি ক্ষুদ্র অংশে উগ্রপন্থার প্রবণতা রয়েছে। মাঝে মাঝে তারা সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করে, তবে রাষ্ট্র তা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।”
তিনি বলেন, “অতীতে রাজনৈতিক উদ্দেশে জঙ্গি শব্দের অতিরিক্ত ব্যবহার করা হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ প্রমাণিত না হলেও মানুষকে জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।”
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, “একটা ছোট ঘটনা আছে, এটা গত সপ্তাহেও বলেছিলাম, আবারও বলছি। সরকার এগুলো নিয়ে ধীরে ধীরে আইনি ব্যবস্থার দিকেও যাবে। গত ব্রিফিংয়ে কর্মসূচিভুক্ত খালের সংখ্যা এক হাজার ২৬০ কিলোমিটার, খননকৃত খালের প্রাপ্ত দৈর্ঘ্য ৫৬১ কিলোমিটার, শতকরা অগ্রগতির হার ৪৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ বলেছিলাম। এটা আমাদের কর্মসূচির খালের প্রায় অর্ধেক। অথচ, একটা ফটোকার্ড তৈরি হলো, আমি নাকি বলেছি সারাদেশের অর্ধেক খাল খনন করা হয়ে গেছে। এটা নামগোত্রহীন কেউ না, পরিচিত জাতীয় দৈনিকের ফটোকার্ড।”
জাহেদ উর রহমান বলেন, “ফ্যাক্ট চেকাররা এটাকে ডিবাঙ্ক (সত্য তথ্য তুলে ধরা) করেছেন। এটা যে ডিসইনফরমেশন সেটা করেছেন। কিন্তু, এগুলো করছি আমরা। একটা কথা খুব জরুরি, উই মাস্ট বি সিরিয়াস অ্যাবাউট দ্যাট, মিসইনফরমেশন এবং ডিসইনফরমেশন। এ সরকার এগুলো টলারেট করবে না, কারও দিক থেকেই করবে না। এটা একজন ব্যক্তি করার আর একটা প্রতিষ্ঠান করার মধ্যে সিরিয়াস পার্থক্য আছে।”
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, “একটু ব্যক্তিগত কথা বলেই ফেলি, মানে আমি খুব স্টুপিড মানুষ না। আমার প্রচুর পরিচিত মানুষজনের কাছ থেকেই কার্ড পাঠিয়ে আমার কাছে জানতে চাওয়া হচ্ছে। ইভেন এমন সব কথাবার্তা আসছে সেগুলো সরিয়ে রাখি। যেগুলো ফেক ব্যক্তি করছেন, ফটোকার্ড বানিয়ে বলছেন, আমি নাকি বলছি জনগণের কল্যাণের জন্য জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়েছে। আমি এগুলো এভাবে বলিনি। কিন্তু, এই যে কথাটাকে বিকৃত করা হলো, আমাকে অনেকে পাঠিয়ে জিজ্ঞেস করছেন যে আমি বলেছি কি না।”
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমি আপনাদের অনুরোধ করছি, সাংবাদিকতা সাংবাদিকতাই যেন হয়, প্লিজ।”
উপদেষ্টা বলেন, “আমি আগেও একদিন বলেছি, সরকারের সমালোচনা করার অনেক কিছু পাওয়া যাবে। এ দেশ এত বড়, এত জটিলতা। একটু পেছনের কথা বলতে হয়, শেখ হাসিনা এ দেশটাকে এত বাজেভাবে রেখে গেছেন যে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও আপনি দেখবেন সমালোচনার জায়গা তৈরি হচ্ছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে সরকারের ব্যর্থতা আপনি পাচ্ছেন, পাবেন। জেনুইন জিনিসগুলো নিয়ে সমালোচনা করেন, আমি সেটাকে ওয়েলকাম করছি।”
তিনি বলেন, “আমরা এটা নিয়ে শক্ত অবস্থানে যাবো। আমরা অপতথ্য (ডিসইনফরমেশন) দিয়ে করা ফটোকার্ড অ্যালাউ করবো না। আমার মনে হয় মিডিয়ার মানুষ হিসেবে এটা আপনাদের চাওয়া উচিত। এর আগে আমি যথেষ্ট পরিমাণ কমিউনিকেট করার চেষ্টা করছি, এর বেশিকিছু না। আমরা আমাদের মেয়াদের শেষদিন পর্যন্ত মিডিয়াকে ভয় পেতে চাই।”
তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন, “আর আগেও বলেছি, আমরা আসলে এরকম একটা প্যানেল, লিগ্যাল প্যানেল তৈরি করছি। সব ক্ষেত্রেই যাতে তারা এই ব্যাপারগুলো নিয়ে কাজ করতে পারে। এটা খুব দ্রুতই আপনারা হয়তো জেনে যাবেন।”
দেশব্যাপী টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। বলেন, “সরকার দ্রুত টিকা প্রয়োগের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। টিকা কার্যক্রম শেষ হলে এবং নিয়মিতভাবে চালু রাখা গেলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সমস্যা থাকবে না।”