স্টাফ রিপোর্টার : ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হলেও সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তিতে সুপারিশ থেকে বঞ্চিত যোগ্য, মেধাবী ও সনদধারী প্রার্থীরা শতভাগ নিয়োগের দাবিতে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)-তে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
রোববার (১২ জুলাই) আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন খোরশেদ আলম। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তিতে ৬ হাজারেরও বেশি যোগ্য প্রার্থী সুপারিশ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এর প্রধান কারণ বিষয়ভিত্তিক পর্যাপ্ত শূন্যপদ যুক্ত না করা। ফলে হাজারো নিবন্ধনধারী প্রার্থী চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, শূন্যপদ থাকা সত্ত্বেও সুপারিশবঞ্চিত যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ না দিয়ে নতুন গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলে তা মেধার প্রতি অবিচার হবে। তাই নতুন কোনো গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনের চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ ও সুপারিশবঞ্চিত প্রার্থীদের শতভাগ নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
সুপারিশ বঞ্চিতরা ৩ দফা দাবি তুলে ধরেন-
১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ ও সুপারিশ বঞ্চিতদের সুনির্দিষ্ট ৩ দফা দাবি:
১/ বিষয়ভিত্তিক পর্যাপ্ত শূন্য পদ যুক্ত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সুপারিশ বঞ্চিতদের জন্য গণবিজ্ঞপ্তি দিতে হবে,প্রয়োজনে নতুন করে ই-রিকুইজিশন এর মাধ্যমে শূন্য পদের চাহিদা আবার নিতে হবে।
২/যে সকল বিষয়ে যোগ্য, নিবন্ধিত,সনদধারী প্রার্থী রয়েছে সে সকল বিষয়ে সুপারিশ বঞ্চিতদের নিয়োগের আগে নতুন করে কোন সার্কুলার প্রকাশ করা যাবেনা।
৩/ সনদের মেয়াদ এবং বয়স সময়সীমার মধ্যে থাকা সাপেক্ষে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ ও সুপারিশ বঞ্চিত সবাইকে নিয়োগের আওতায় নিয়ে আসতে হবে,
সহকারী শিক্ষক, স্কুল পর্যায়-২ এবং প্রভাষক পদে শতভাগ নিয়োগ এর জোর দাবি জানাচ্ছি।
বক্তারা আরও বলেন, তাদের যৌক্তিক দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির পাশাপাশি আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন খোরশেদ আলম, মুনিয়া তাসনিম, মিনু আক্তার, মাসুদ রানা, নিপা আক্তার, শাকিল মিয়া ও অনন্যা রানী। তারা এনটিআরসিএ (NTRCA) কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত বিষয়টি বিবেচনা করে সুপারিশবঞ্চিত নিবন্ধনধারীদের নিয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তারা মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
বঞ্চিত প্রার্থীরা বলেন, “মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী আমাদের নিয়োগের আশ্বাস দিয়েছিলেন। আমরা সেই আশ্বাসের বাস্তবায়ন চাই।”
খোরশেদ আলম বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে দুইবার বঞ্চিত হয়েছি। বারবার বঞ্চিত হতে চাই না। আমরা নামমাত্র কোনো গণবিজ্ঞপ্তি চাই না; বরং বিষয়ভিত্তিক পর্যাপ্ত শূন্যপদ যুক্ত করে আমাদের শতভাগ নিয়োগ নিশ্চিত করা হোক।”
বর্তমানে সুপারিশবঞ্চিত প্রার্থীরা সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন এবং তাদের দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের প্রত্যাশা করছেন।