আন্তর্জাতিক ডেস্ক//গাজার একটি পরিবার তাদের তাঁবু সাজানোর চেষ্টা করছে। মাইসুন আল-বারবারাউইয়ের ছেলে একটি রমজানের ফানুস ঝুলিয়ে দিচ্ছে। ছবি: আল জাজিরা
গাজার একটি পরিবার তাদের তাঁবু সাজানোর চেষ্টা করছে। মাইসুন আল-বারবারাউইয়ের ছেলে একটি রমজানের ফানুস ঝুলিয়ে দিচ্ছে। ছবি: আল জাজিরা
গাজায় নাজুক যুদ্ধবিরতির মধ্যে শুরু হয়েছে পবিত্র রমজান। টানা যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি ও মানবিক সংকটের মধ্যেও অনেক ফিলিস্তিনি পরিবার সীমিত সামর্থ্যে রমজানের আনন্দ ধরে রাখার চেষ্টা করছে। মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী এলাকায় ৫২ বছর বয়সী মাইসুন আল-বারবারাউই তার তাঁবুতে দুই ছেলেকে নিয়ে রমজান বরণ করেছেন। ক্লান্তির মাঝেও ছেলের জন্য ছোট একটি ফানুস কিনে দিতে পেরে তিনি আনন্দিত। তার ভাষায়, সন্তানদের হাসিই এখন সবচেয়ে বড় স্বস্তি। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এক নিবন্ধে এ বিশ্লেষণ তুলে ধরেছে।
গত দুই বছরে গাজায় যুদ্ধের তীব্রতায় ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বর্তমানে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি থাকলেও মাঝেমধ্যে গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটছে। মাইসুন বলেন, এটি তাদের গৃহহীন অবস্থায় টানা তৃতীয় রমজান। যুদ্ধের শুরুতে দক্ষিণ-পূর্ব গাজার বাড়ি হারিয়ে পরিবারসহ এক শিবির থেকে আরেক শিবিরে ঘুরে শেষ পর্যন্ত তিনি বুরেইজে আশ্রয় নেন। সীমিত সম্পদে ইফতারের আয়োজন নিয়েও তিনি অনিশ্চিত। তার প্রধান প্রার্থনা, যেন যুদ্ধ আর না ফিরে আসে।
গাজাবাসীর অনেকেই আশঙ্কা করছেন, গত বছরের মতো এবারও রমজানের মধ্যেই যুদ্ধ তীব্র হতে পারে। ২০২৫ সালের মার্চে রমজানের দ্বিতীয় সপ্তাহে পুনরায় লড়াই শুরু হলে সীমান্ত বন্ধ হয়ে যায় এবং খাদ্য সহায়তা বন্ধ থাকায় তীব্র দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। সেই স্মৃতি এখনও তাজা।
জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডব্লিউএফপি) এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার ও মানবিক সহায়তা বিষয়ক সংস্থা (ওসিএইচএ) জানায়, বর্তমান যুদ্ধবিরতির পর কিছু খাদ্যপণ্যের সরবরাহ তুলনামূলকভাবে বেড়েছে এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম আংশিকভাবে চালু হয়েছে। তবে বাজারে পণ্যের দাম এখনও বেশি এবং অনেক পরিবার মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
৫৫ বছর বয়সী হানান আল-আত্তারও এমন একজন, যিনি রমজানের প্রথম দিনে একটি ত্রাণের প্যাকেট পেয়েছেন। তিনি এক বছর আগে উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া থেকে দেইর আল-বালাহে পালিয়ে এসে এখন ১৫ জন স্বজনকে নিয়ে একটি তাঁবুতে থাকেন। তার দুই ছেলে গত বছর বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। তাদের অনুপস্থিতি এই রমজানে তার বেদনা আরও গভীর করেছে।
বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোর অভাবে হানান প্রতিদিন প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার কেনেন, কারণ সংরক্ষণের সুযোগ নেই। রান্নার গ্যাসের সংকটে তিনি দুই বছর ধরে খোলা আগুনে রান্না করছেন। দুর্ভিক্ষের সময় তিনি ডালের গুঁড়া দিয়ে রুটির বিকল্প তৈরি করতেন, যাতে সবার জন্য খাবার জোটে।
সব প্রতিকূলতার মধ্যেও গাজার মানুষের প্রত্যাশা একটাই, শান্তি ও নিরাপত্তা। হানানের ভাষায়, এই রমজান যেন সবার জন্য কল্যাণ বয়ে আনে এবং বাস্তুচ্যুত মানুষগুলো যেন আবার নিজেদের ঘরে ফিরতে পারে।