1. masudkhan89@yahoo.com : admin :
  2. banglarmukhbd24@gmail.com : News Editor : News Editor
সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২২ পূর্বাহ্ন

আলোচনা-সমালোচনায় নির্বাচন কমিশনের এক বছর

সাংবাদিক
  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৫৫ বার সংবাদ দেখেছেন

বাংলা রিপোর্ট//ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। একই দিন অনুষ্ঠিত হবে গণভোটও। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরে সাধারণ মানুষের বহুল কাঙ্ক্ষিত এই নির্বাচন আয়োজন করতে যাচ্ছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে সাংবিধানিক এই দায়িত্ব পালনের প্রতিটি ধাপেই নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, ঘোষণা ও কার্যক্রমের পরে মুখোমুখি হতে হয়েছে তীব্র বিতর্ক, আলোচনা ও সমালোচনার। পাশাপাশি নিজেদের পদক্ষেপে প্রশংসিতও হয়েছে এই কমিশন। সব কিছু মিলিয়ে বছরজুড়েই রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল এই নির্বাচন কমিশন।

সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব গ্রহণ করে ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর। অবসরপ্রাপ্ত এই সচিবের নেতৃত্বাধীন এই কমিশনে যোগ দেন আরও চার কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ আব্দুর রহমানেল মাছউদ, সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, সাবেক যুগ্ম সচিব তাহমিদা আহমদ এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

এই নির্বাচন কমিশন গঠনের সময় সিইসি হিসেবে বিএনপি যে দুজনের নাম প্রস্তাব করেছিল, তার মধ্যে এএমএম নাসির উদ্দিনের নামও ছিল। তিনি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ছিলেন। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে অবসরে যান এএমএম নাসির উদ্দিন।

পরবর্তী সময়ে নাসির উদ্দিন নেতৃত্বাধীন এই নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব নেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের মতো বৃহৎ ও ঐতিহাসিক কর্মযজ্ঞের। এরপরে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশসহ (আরপিও) বড় আইনি সংস্কার, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীসহ নির্বাচনি আইন ও বিধি সংস্কারে বড় সংশোধন আনে ইসি। প্রথমবারের মতো শুরু করে আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট সিস্টেম। একইসঙ্গে বাংলাদেশের নির্বাচনি ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বন্ধ করে নির্বাচনে প্রচারণার পোস্টার। এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরে ইসি যেমন হয়েছে বিতর্কিত, আলোচিত, সমালোচিত; একইসঙ্গে কুড়িয়েছে প্রশংসাও।

বিদায়ী বছরকে সফল হিসেবেই দেখছে ইসি

সদ্য বিদায়ী ২০২৫ সালকে ভালো-মন্দ মিলিয়ে সফল হিসেবেই দেখছেন নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থাটি। এ বিষয়ে বাংলা ট্রিবিউনের কথা হয় নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদের সঙ্গে।

নির্বাচনের পথে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, যা এই বছরের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্তগুলোর একটি। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আপনাদের কী কী চ্যালেঞ্জের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা অনেক কাজ করেছি। চ্যালেঞ্জ বলতে আমরা এরকম কিছু পাইনি। আপনি যদি চ্যালেঞ্জ মনে করেন তাহলে চ্যালেঞ্জ। এটা আসলে মনের ব্যাপার। নাথিং ইজ গুড অর ব্যাড, বাট থিংকিং মেকস ইট সো। কোনও কিছুই নিজে থেকে ভালো বা খারাপ না, যে যেভাবে দেখে আরকি। এমন কোনও সিদ্ধান্ত কী আছে যেটা নিয়ে অনেক বেশি ভাবতে হয়েছে প্রশ্নে তিনি বলেন- না, আমরা বা আমি এরকম কিছু পাইনি।

২০২৫ সাল পুরো এক বছর নির্বাচন কমিশন কেমন কাটিয়েছে, জার্নিটা কেমন ছিল জানতে চাইলে ইসি রহমানেল মাছউদ বলেন, এই বছরের জার্নি যদি আমাকে জিজ্ঞেস করেন, তাহলে আমি বলবো ভালো-মন্দ মিলিয়েও আমরা সফল হয়েছি। আর আগামী বছর নিয়ে আমরা আরও আশাবাদী, নির্বাচন সঠিক হবে, সুন্দর হবে এবং সেটা মানুষের নির্বাচন হবে। অতীতে নির্বাচন নিয়ে মানুষের মনের মধ্যে যে একটা আশঙ্কা স্থান পেয়েছে, সেটা আশা করছি কেটে যাবে। ভালো নির্বাচন হবে, মানুষের গ্রহণযোগ্য হবে। আর যদি এ নির্বাচন আমরা গ্রহণযোগ্য করতে পারি, তাহলে আমরা বলবো সম্পূর্ণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পেরেছি।

হাদির গুলিবিদ্ধকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ আখ্যা, সমালোচনার মুখে ব্যাখ্যা প্রদান

ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি আততায়ীর দ্বারা গুলিবিদ্ধ হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সে সময় তার ওপর হামলার ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে উল্লেখ করলে সমালোচনার মুখে পড়েন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন। পরবর্তী সময়ে এ বক্তব্যের জন্য ব্যাখ্যা দেয় কমিশন। তারা জানায়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার মহোদয় মূলত তার বক্তব্যে বোঝাতে চেয়েছেন যে ওসমান হাদির ওপর সন্ত্রাসী হামলা আসন্ন নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। কমিশন শরিফ ওসমান হাদির দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছে এবং তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বরাবর আত্মবিশ্বাসী মনোভাব দেখিয়েছে নাসির কমিশন। তবে এই নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা না দেখা ইসির নিজের প্রাঙ্গণেই ককটেল ফোটার ঘটনা ঘটেছে। ককটেল পাওয়া গেছে, জিডিও হয়েছে। আবার দুই ভোটকে সামনে রেখে নিরাপত্তা বাড়িয়েছে ইসি। অতিরিক্ত নিরাপত্তা বেষ্টনী, বন্ধ করেছে সড়কের এক পাশও।

তিনবার হালনাগাদ করে ভোটার তালিকা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রথমবারের মতো একই বছরে তিনবার ভোটার তালিকা হালনাগাদ করে তালিকা প্রকাশ করে ইসি। এর আগের কোনও নির্বাচনে এক বছরের মধ্যে এতবার ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হয়নি।
নাসির উদ্দিন নেতৃত্বাধীন কমিশন চলতি বছরের ২ মার্চ প্রথম ভোটার তালিকা প্রকাশ করে। এরপর দ্বিতীয় ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয় গত ৩১ আগস্ট। আর সবশেষ প্রকাশ করে ১৮ নভেম্বর।

এদিকে ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯-এর ৩ ধারার উপধারা (জ) এবং ১১ ধারার ১ উপধারা এমনভাবে সংশোধন করা হয়, যাতে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজন অনুযায়ী ভোটার যোগ্যতা অর্জনের তারিখ এবং তালিকা সংশোধনের সময়সীমা নির্ধারণ করতে পারে। এ আইনের ধারা ৩(জ): ভোটার যোগ্যতা অর্জনের তারিখ হিসেবে ১ জানুয়ারির পরিবর্তে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত অন্য তারিখ নির্ধারণের সুযোগ রাখা হয়েছে। আবার ধারা ১১(১): ২ জানুয়ারি থেকে ২ মার্চ ভোটার তালিকা প্রকাশের সময়সীমা ছাড়াও কমিশনের বিবেচনায় ‘উপযুক্ত সময়’ প্রকাশ করার বিধান আনা হয়েছে।

এই নির্বাচনে ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ হয়েছে তাদের নিয়েই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। চূড়ান্ত হিসাবে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭ জন ও মহিলা ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩৪ জন।

আরপিও সংশোধন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) সংশোধন আনে নির্বাচন কমিশন। সেখানে রাখা হয় আদালতের দৃষ্টিতে ফেরারি আসামিকে ভোটে অযোগ্য করার সংশোধনী। এছাড়াও আরও কিছু সংশোধনী আনার ফলে বেড়েছে ইসির কর্তৃত্ব।

আরপিওতে যেসব সংশোধনী আনা হয়েছে সেগুলো হলো––আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে সেনা, নৌ, বিমানবাহিনী ও কোস্টগার্ড যুক্ত। পুরো বা আংশিক আসনে বাতিল বা স্থগিতের ক্ষমতা পুনর্বহাল। ‘না’ ভোট শুধু একক প্রার্থীর আসনে প্রযোজ্য; বিনা ভোটে নির্বাচিত নয়। ইভিএমের সব প্রভিশন বাতিল। কর্মকর্তাদের অবহেলায় শাস্তি সুনির্দিষ্ট; তিন দিনে তদন্ত শেষ করে ইসিকে জানাতে হবে। পর্যবেক্ষক-সংবাদকর্মী অনুমতিপ্রাপ্তরা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন। আচরণবিধি ভঙ্গের শাস্তির বিধান যুক্ত। ভোট গণনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সংবাদকর্মীদের উপস্থিত থাকা। সমভোট হলে লটারির পরিবর্তে পুনরায় নির্বাচন হবে। প্রচারে শুধু ডিজিটাল বিলবোর্ডে আলো ব্যবহার করা যাবে; অন্যান্য আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ। ব্যয়ের অডিট আরও কঠোরভাবে নিরীক্ষা করা হবে।

এছাড়াও দলীয় অনুদানের ক্ষেত্রে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান উভয় ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা; ব্যাংক ও আয়কর রিটার্ন বাধ্যতামূলক। পুলিশ-প্রশাসনের বদলিতে রেঞ্জ ডিআইজি অন্তর্ভুক্ত। এআই-ভিত্তিক মিথ্যাচার করা হলে প্রার্থী, দল ও মিডিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। দলীয় নিবন্ধন নাকচ হলে ১৫ দিনের মধ্যে লিখিত কারণ জানাতে হবে। দলের কার্যক্রম স্থগিত বা নিষিদ্ধ হলে নিবন্ধনও স্থগিতের বিধান। হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিয়ে নির্বাচিত হওয়ার পরও পাঁচ বছরের মধ্যে প্রমাণিত হলে প্রার্থিতা বাতিল ও এমপি পদ খারিজ হতে পারে। বাড়ানো হয়েছে প্রিসাইডিং অফিসারের ক্ষমতা, তবে ভোটে প্রভাব খাটালে শাস্তির বিধানও রয়েছে।

রাজনৈতিক দল ও অংশীজনদের নিয়ে সংলাপ

অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের কথা শুরু থেকেই বলেছে এই নাসির উদ্দিন নেতৃত্বাধীন কমিশন। তাই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এবার চার ধাপে নিবন্ধিত ৪৯টি দলকে আমন্ত্রণ জানালে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিসহ ৩৪টি দল সংলাপে অংশ নেয়।

তবে ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি জোট শরিকে থাকা ছয়টি দল নিয়ে বর্তমানে রাজনীতির মাঠে চলছে সমালোচনা ও বিতর্ক। এ সমালোচনা ও বিতর্ক থেকে ইসিকে দূরে রাখতেই সাতটি দলকে সংলাপে না ডাকার সিদ্ধান্ত নেয় ইসি। অথচ কেবল নিবন্ধন স্থগিত করা হয়েছে আওয়ামী লীগের। ইসির সিদ্ধান্তের ফলেও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়।

ইসির রাজনৈতিক সংলাপে যে সাত দল এবার আমন্ত্রণ পায়নি সেগুলো হলো– জাতীয় পার্টি-জেপি, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এমএল), বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, গণতন্ত্রী পার্টি, জাতীয় পার্টি-জাপা, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ এবং বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন।

এদিকে সংলাপের সময় শেষ হওয়ার পর নিবন্ধন পাওয়া পাঁচটি দল এতে অংশ নিতে পারেনি। এছাড়া নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, নারী নেত্রী, গণমাধ্যম ও বিভিন্ন পেশাজীবীর সঙ্গে আলোচনা করেছে সংস্থাটি। তবে জুলাইযোদ্ধাদের সঙ্গে সংলাপ করার কথা থাকলেও তা করতে পারেনি ইসি। এসব সংলাপে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), আচরণবিধি ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বিতর্কিত হয় রাজনৈতিক দল নিবন্ধন নিয়ে

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আবেদন আহ্বান করে ইসি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৪৩টি দলের নিবন্ধন আবেদন জমা হয়। এরপর প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে কোনও দল উত্তীর্ণ না হলে শর্ত পূরণে ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়। এতে ৪৩টি দল শর্ত পূরণের জন্য কাগজ জমা দেয়, আর বাকি দলগুলোর নিবন্ধন আবেদন বাতিল করে দেয় ইসি।

মাঠপর্যায়ের তদন্ত শেষে এনসিপি, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্ক্সবাদী) ও বাংলাদেশ আম জনগণ পার্টিকে নিবন্ধন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে দাবি-আপত্তি আহ্বান করে সংস্থাটি। পরবর্তী সময়ে এনসিপি ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্ক্সবাদী) দাবি-আপত্তি না আসায় নিবন্ধন চূড়ান্ত করে ইসি। আর বাংলাদেশ আম জনগণ পার্টির কার্যক্রম আরও যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হয়। এছাড়া কয়েকটি দলের মাঠ তদন্তের পরও উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত করে নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থাটি।

অন্যদিকে ধাপে ধাপে যাচাই ও পুনর্বিবেচনার আবেদন আমলে নিয়ে আমজনতার দল, জনতার দল ও বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টিকে (বিইপি) নিবন্ধন দেওয়া হয়। আদালতের আদেশে নিবন্ধন পায় বাংলাদেশ নেজামি ইসলামি পার্টি। এ ক্ষেত্রে নতুন ছয়টি দল নিয়ে নিবন্ধিত দলের সংখ্যা দাঁড়ালো ৫৯। আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত হয়েছে। বাতিল হয়েছে পিডিপি, ফ্রিডম পার্টি ও ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলনের নিবন্ধন।

সমালোচনা-বিতর্ক এনসিপির ‘শাপলা’ ও আমজনতার দলের নিবন্ধন নিয়ে

একটি দলের প্রতীক নিয়ে আট মাসের বেশি সময় যুদ্ধ করেছে ইসি, আবার আরেকটি দলের প্রধান নিবন্ধনের দাবিতে আমরণ অনশন করে নিবন্ধন করেছে। তবে এ বিষয়ে ইসি ভাষ্য, ন্যায্যই হয়েছে।

দলের নিবন্ধনের আবেদন করেও প্রথম ধাপে নিবন্ধন না পেলে টানা ১২৫ ঘণ্টা আমরণ অনশন করে নতুন দল হিসেবে নিবন্ধন পায় তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন ‘আমজনতার দল’।

অপরদিকে দলের নিবন্ধন পেলেও প্রতীক নিয়ে ইসির সঙ্গে পাল্টাপাল্টি শীতল বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সদস্যরা। ‘শাপলা’ প্রতীক ছাড়া নিবন্ধন না নেওয়ার ঘোষণা করে এনসিপি। এরপর কমিশন থেকে একাধিকবার এনসিপিকে চিঠি দিয়ে সংরক্ষিত প্রতীকের তালিকা থেকে দলের প্রতীক পছন্দ করতে বলা হলেও ‘শাপলা’ ছাড়া অন্য কোনও প্রতীক নেবে না বলে জানায় দলটি। তবে পরবর্তী সময়ে বিধিমালা সংশোধন করে প্রতীক তালিকায় ‘শাপলা কলি’ যুক্ত করা হলে তা গ্রহণ করে এনসিপি।

প্রথমবারের মতো প্রচারে পোস্টার নিষিদ্ধ করে প্রশংসা কুঁড়ায় ইসি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালায় যুক্ত করে তা জারি করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংস্থাটির এমন সিদ্ধান্ত প্রশংসা কুড়ায় সাধারণ মানুষের। তবে পুরোপুরি সফলতা পায়নি ইসি।

এদিকে কেবল পোস্টার নিষিদ্ধই না, আচরণবিধি লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ জরিমানা দেড় লাখ টাকাও নির্ধারণ করেছে ইসি। আবার সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে প্রার্থিতা বাতিলের বিধানও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়া অপব্যবহার রোধে কঠোর নিয়ম আরোপ করা হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার সংক্রান্ত নতুন ধারা যুক্ত করা হয়েছে। সব প্রার্থীর ইশতেহার একই প্ল্যাটফর্মে প্রকাশের নিয়ম থাকছে। ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারের জন্য সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকবে, যা ইসি কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হবে। আবার আচরণবিধি মেনে চলার ব্যাপারে দলের কাছ থেকে অঙ্গীকারনামাও নেবে বলে জানায় ইসি।

রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আয়োজিত সংলাপে তফসিল ঘোষণার আগে দলগুলোর উদ্দেশে সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিন বলেছেন, ঢাকা শহর ছেয়ে গেছে পোস্টারে। অথচ আমরা পোস্টার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছি। এগুলো সরাতে হবে। যারা লাগিয়েছেন সরিয়ে নিন; আমরা কঠোর হবো। এসব ক্ষেত্রে উই উইল নট স্পেয়ার, আমরা ব্লাইন্ডলি উইল জাম্প ওভার দিস ভায়োলেশন। যখন তফসিল ঘোষণা হবে, তখন আমরা ঝাঁপিয়ে পড়বো।

তফসিল ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও নির্বাচনি পোস্টার দেখা যায়। সে সময় নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, আমরা সুনির্দিষ্ট পরিপত্র জারি করেছি, আমাদের রিটার্নিং অফিসাররা এগুলো নিয়ে ব্যবস্থা নিবেন। আমি মন্দের ভালোটা বলি… অন্তত আজকে বাসা থেকে আমি অফিসে আসতে গিয়ে কিন্তু আমি অনেক ব্যানার টানা আর দেখি নাই। তবে আমার চোখে কিছু পোস্টার পড়েছে যেগুলো আঠা দিয়ে দেয়ালের সঙ্গে লেপটানো। এগুলো আর হয়তো সরাতে পারে নাই। কিন্তু এগুলো নিয়েও আমরা রিটার্নিং অফিসারদের বলে দেবো এগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে।

ভোটাধিকার রক্ষায় আইটি-সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট

প্রথমবারের মতো প্রবাসে থাকা ভোটার ও ভোটের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনি হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের ভোটাধিকার নিশ্চিতে আইটি-সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতি চালু করেছে নির্বাচন কমিশন। ইসির এই সিদ্ধান্তও প্রশংসা কুড়ায়।

‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে আবেদন করলে পোস্টাল ব্যালট ভোটারের কাছে ডাক বিভাগের মাধ্যমে পৌঁছে দেবে নির্বাচন কমিশন, এরপর তা আবার ফেরতও আনা হবে। এছাড়া গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) এ সংক্রান্ত আইনও যুক্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখের অধিক ভোটার ভোট দেওয়ার জন্য এতে নিবন্ধন করেছেন।

সাংবাদিক নীতিমালা প্রণয়ন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের জন্য নীতিমালা প্রকাশ করে ইসি। তবে ভোটকক্ষে প্রবেশের আগে প্রিসাইডিং অফিসারকে অবহিত করাসহ কয়েকটি বিষয়ে সাংবাদিকরা আপত্তি তুললে তা নমনীয় করার আশ্বাস দেয় নির্বাচন কমিশন।

ভোটে গোপন বুথের সংখ্যা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে হওয়ায় গোপন বুথের সংখ্যা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থাটি। এবার সারা দেশে মোট ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্র স্থাপনের চূড়ান্ত করে ইসি; যার মধ্যে পুরুষদের জন্য ভোট কক্ষ ১ লাখ ১৫ হাজার ১৩৭টি এবং নারীদের জন্য ১ লাখ ২৯ হাজার ৬০২টি নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ মোট কক্ষের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৯টি।

১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের প্রস্তুতি

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। জাতীয় এই অনুষ্ঠানকে সামনে রেখেই সব প্রস্তুতি শেষ করে ভোটের তারিখ ঘোষণা করেছে নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থাটি। এ ক্ষেত্রে দুই ভোট একসঙ্গে হওয়ায় অতিরিক্ত ব্যালট পেপার ছাপানো, ভোট গ্রহণের জন্য এক ঘণ্টা সময় বৃদ্ধি এবং গোপন বুথের সংখ্যা বৃদ্ধির পরিকল্পনা ছাড়া অতিরিক্ত কোনও প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হয়নি নির্বাচন কমিশনকে।

নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ দেবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আর ভোটগ্রহণ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।

এদিকে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন কতটা আশাবাদী জানতে চাইলে এই নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমি শতভাগ আশাবাদী। ভালোভাবে নির্বাচন হবে।

সামাজিক যোগাযোগ এ শেয়ার করুন

একই বিভাগের আরও সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২১ বাংলার মুখ বিডি
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট @ ইজি আইটি সল্যুশন