বিনোদন রিপোর্ট//অনিরুদ্ধ রায় চৌধুরীর নির্মাণে লেডি সুপারস্টার জয়া আহসান অভিনীত ‘ডিয়ার মা’ চলচ্চিত্রটি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় রেকর্ড গড়লো। মাত্র তিনদিনে প্রায় অর্ধশত সিনেমা হলে মুক্তি পায় ছবিটি।
ছবিটির প্রথম দিনের আয় ১১১০০ ডলার। এর আগে কলকাতার কোনও চলচ্চিত্র এত অল্প সময়ে এই গ্রস কালেকশন করতে পারেনি।
ছবিটির বিপণন প্রতিষ্ঠান বায়োস্কপ ফিল্মসের কর্ণধার রাজ হামিদ বলেন, ‘‘একটা ভালো গল্পের ছবি সবসময় দর্শকদের মন জয় করে। সেক্ষেত্রে ‘ডিয়ার মা’ দেখার পর একজন দর্শকও মুগ্ধতা ছাড়া কথা বলেননি। এটাই অনিরুদ্ধ রায়ের ছবির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য। আর আমি মনে করি বাংলা ভাষার যে কোনও চলচ্চিত্রের সাফল্য মানে বাংলা নিয়ে কাজ করা প্রতিটি শিল্পীর জয়।’’
জয়া আহসান বলেন, ‘অনিরুদ্ধ রায় চৌধুরী আসলে সম্পর্কের গল্প বলতে ভালোবাসেন। তাই তার মুভিগুলো পারিবারিক ও মনস্তাত্বিক। পরিবার নিয়ে ছবি দেখতে আসুন, এই কথাগুলো আমরা সব ছবির ক্ষেত্রে বলতে পারি না। এই ছবিটির বিশেষত্ব এটাই। এটা পরিবার নিয়ে দেখার মতো একটা মুভি।’
ছবিটি প্রথম সপ্তাহে অর্ধশত সিনেমা হলে মুক্তি পেলেও পরের সপ্তাহে এই সংখ্যাটা আরও বাড়বে বলে বায়োস্কপ ফিল্মস জানায়।
উল্লেখ্য, ‘অন্তহীন’, ‘অনুরণন’, ‘পিংক’খ্যাত নির্মাতা অনিরুদ্ধ রায় চৌধুরী দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর পর কোনও বাংলা ছবি নির্মাণ করলেন। বর্তমানে নির্মাতা অনিরুদ্ধ ও ছবিটির প্রযোজক ইন্দ্রানী মুখার্জী ‘ডিয়ার মা’র আন্তর্জাতিক মুক্তি উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক স্টেটে ছবিটির প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন।
ছবিটির বিভিন্ন চরিত্রে জয়া আহসান ছাড়াও অভিনয় করেছেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, নন্দিকা দাস, চন্দন রায় সান্যাল, ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায়সহ অনেকে।
তার আগে এক সাক্ষাতকারে অভিনেত্রী তার জীবনসঙ্গি নিয়ে কথা বলেন।
প্রেম-বিয়ে প্রসঙ্গে বিস্ফোরক তথ্য দিলেন জয়া আহসান। যারা এতকাল তাকে একলা ভেবেছিলেন, তাদের জন্য মূলত এই ঘোষণাটি অস্বস্তিকর হতে পারে। খবরটি হলো, লম্বা সময় ধরেই সম্পর্কে আছেন অভিনেত্রী। অনেক বছর ধরেই রয়েছেন একসঙ্গে।
সম্প্রতি কলকাতায় মুক্তি পেয়েছে জয়া অভিনীত দুটি ছবি-‘ডিয়ার মা’ ও ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’। সিনেমা দুটির প্রচারণায় ব্যস্ত এই অভিনেত্রী সম্প্রতি কলকাতাভিত্তিক একটি ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রথমবারের মতো স্বীকার করলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্কে আছেন। জানালেন বিয়ে ভাবনা এবং ব্যক্তিজীবনের কিছু অজানা কথা।
প্রেমিক প্রসঙ্গে সঞ্চালকের প্রশ্নে জয়া অকপটে বলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই আছে। মানুষ তো একা থাকতে পারে না। অবশ্যই আছে।’ তবে তিনি জানান, তার ‘বিশেষ মানুষ’ সিনেমা জগতের কেউ নন।
জয়ার ভাষ্যে, ‘আমরা অনেক দিন ধরেই একসঙ্গে আছি, বহু বছর…। যেকোনও সম্পর্কে পার্টনার হওয়ার আগে ভালো বন্ধু হয়ে উঠতে পারা গুরুত্বপূর্ণ; আমরা সেটা পেরেছি। সে আমার অনেক অত্যাচার সহ্য করে। আমি একজন অভিনয়শিল্পী, অনেক ভ্রমণ করি, কলকাতায় এসে দীর্ঘদিন কাজ করি- এসব কোনও কিছুই সে মনেও আনে না। আমাকে কাজ করতে দিচ্ছে, এটা বড় বিষয়। আমরা দুজনই খুব প্রাইভেট মানুষ, তাই নিজেদের মতো করে থাকার চেষ্টা করি।’
সঙ্গীর কোন একটি গুণ সবচেয়ে পছন্দ- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সে অনেক শান্ত।’ সঞ্চালক তখন মজা করে বলেন, ‘আপনিও তো শান্ত।’ জবাবে জয়া বলেন, ‘হ্যাঁ, হয়তো সে জন্যই তাকে পছন্দ করেছি।’
বিয়ে প্রসঙ্গে জয়া জানান, ‘এটা আমি এখনই বলতে পারবো না। আমার বিয়ে করার খুব তাড়াতাড়ি ইচ্ছা হবে কিনা, কিংবা আদৌ হবে কিনা আমি জানি না। তবে বিয়ে করে একসঙ্গে থাকার ধারণাকে আমি শ্রদ্ধা করি, কিন্তু এখনও সিদ্ধান্ত নিইনি।’
তাহলে কি তিনি বিয়ের জন্য প্রস্তুত নন- এমন প্রশ্নে বলেন, ‘এটা প্রস্তুতির বিষয় নয়। আমার আসলে একটা ভীতি আছে, ভয় কাজ করে।’
এ ভয় কি অতীত সম্পর্কের অভিজ্ঞতার জন্য? জয়ার উত্তর, ‘হতেই পারে। আমারও সেটাই মনে হয়।’
দুই বাংলার চলচ্চিত্রে সমানতালে কাজ করা জয়া আহসান বাংলাদেশের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী। ‘গেরিলা’, ‘চোরাবালি’, ‘বিউটি সার্কাস’, ‘বিজয়া’ থেকে শুরু করে ‘বিনিসুতোয়’- বড় পর্দায় তার প্রতিটি চরিত্রই দর্শকের কাছে আলাদা আবেদন তৈরি করেছে। অভিনয়ের বাইরে তিনি প্রযোজনাতেও যুক্ত হয়েছেন, যেমন ‘দেবী’ ও ‘ঝরা পালক’। সর্বশেষে দেশে মুক্তি পেয়েছেন ‘তাণ্ডব’ ও ‘উৎসব’। দুটো থেকেই কুড়িয়েছেন প্রশংসা।