আন্তর্জাতিক ডেস্ক//অস্ট্রেলিয়ার শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা বিধির অংশ হিসেবে ১৬ বছরের নীচের বয়সের সব ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট এবং অন্যান্য বড় সামাজিক মাধ্যম থেকে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া বা নিষ্ক্রিয় করার কাজটি রাষ্ট্রীয় উদোগে শুরু হচ্ছে। সম্প্রতি এই দায়িত্বে জুলি ইনম্যান গ্র্যান্টকে নিযুক্ত করা হয়েছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর থেকে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে একটি ঐতিহাসিক আইন কার্যকর করেছে, যার ফলে ১৬ বছরের কম বয়সী সব অ্যাকাউন্ট এসব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে অপসারণ করা হবে এবং অনুর্ধ্ব ১৬ আর কোন অ্যাকাউন্টই যাতে খোলা না হয়,তার জন্যও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যথায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অস্ট্রেলিয়া আরোপিত অর্থদন্ডের মুখোমুখি হতে হবে।
এ আইন বাস্তবায়নে অস্ট্রেলিয়ার ই-সেফটি কমিশনার জুলি ইনম্যান-গ্র্যান্ট প্রতিবছর বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছেন এবং তারা সাহসিকতার সঙ্গে নিরাপত্তা, মিথ্যা তথ্য, ট্রোলিং ও শিশুদের অনলাইন বুলিংয়ের ঝুঁকির বিরুদ্ধে কঠোর ভূমিকা পালন করছেন।
ই-সেফটি কমিশনের প্রধান হিসেবে ইনম্যান-গ্র্যান্ট বলেন, “আগামী তিন বছর যদি শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রবেশ বিলম্বিত করা যায় এবং সেই সঙ্গে তাদের পর্যালোচনামূলক চিন্তা ও মানসিক পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা গড়ে তোলা যায়, সেটি অবশ্যই বিবেচনায় নেয়ার মতো উদ্যোগ।”
তবে প্রযুক্তি কোম্পানি ও বিভিন্ন সমালোচকরা আইনটির বাস্তবায়নে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেন। উদাহরণস্বরূপ, প্ল্যাটফর্মগুলো এখনও অনেক ক্ষেত্রেই বয়েস যাচাই করতে পারছে না এবং অনেক ব্যবহারকারী সহজেই নিয়ম ভাঙার উপায় খুঁজে পাচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার এই উদ্যোগকে অনেক দেশের টেলিকম ও নিরাপত্তা নীতিনির্ধারকরা নজরদারি করছেন, কারণ অতীতে তারা দেখেছে নিষেধাজ্ঞার আগেই ভুয়া বয়সে অ্যাকাউন্ট খোলার চেষ্টা করছে কিশোররা, বিধিনিষেধ এড়াতে ভিপিএন ব্যবহারের আশঙ্কাও রয়েছে। এ ধরনের অ্যাকাউন্ট দ্রুত সরাতে প্ল্যাটফর্মগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে সরকার।