সম্প্রতি কয়েকটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ‘৯ হাজার কোটি টাকা প্রকল্পে আনোয়ার হোসেন শিকদারের রাজত্ব’ শীর্ষক একটি সংবাদ আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে আমাকে জড়িয়ে যেসব অভিযোগ ও বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও বাস্তবতাবিবর্জিত। প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সঙ্গে প্রকল্পের প্রকৃত কারিগরি বাস্তবতা, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের বাস্তব অবস্থার কোনো সামঞ্জস্য নেই।
প্রতিবেদনটি প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আমার বক্তব্য নেওয়া হয়েছে কি না, কিংবা প্রকল্পের অনুমোদন, বাস্তবায়ন, কারিগরি সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত নথিপত্র যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না—তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ফলে একপাক্ষিক ও অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে আমাকে নিয়ে এমন সংবাদ প্রকাশের কারণে আমার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে।
আমি স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, প্রতিবেদনে আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। প্রকল্পের প্রতিটি ধাপ সংশ্লিষ্ট সরকারি বিধিবিধান, অনুমোদিত প্রক্রিয়া ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকে। কোনো প্রকল্পের ব্যয়, কারিগরি অনুমোদন, দরপত্র, বাস্তবায়ন কিংবা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে ব্যক্তিবিশেষের ‘রাজত্ব’ হিসেবে উপস্থাপন করা প্রকল্পের প্রকৃত কাঠামো ও সরকারি প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ধারণা তৈরি করতে পারে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন তথ্য ও বক্তব্যের যথার্থতা নিয়েও আমার আপত্তি রয়েছে। প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, অনুমোদন, সরকারি সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্য যাচাই না করে কোনো ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে অভিযোগ উপস্থাপন করা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে আমি মনে করি।
আমি সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি, প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যগুলো পুনরায় যাচাই করে প্রকৃত তথ্য ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের আলোকে প্রয়োজনীয় সংশোধনী প্রকাশ করা হোক। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আমাকে নিয়ে কোনো সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে আমার বক্তব্য গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত যথাযথভাবে যাচাই করার অনুরোধ করছি।
আমি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। একই সঙ্গে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং তথ্যের ভারসাম্য রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি। কোনো ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে যেন কোনো ব্যক্তির সামাজিক, পেশাগত ও ব্যক্তিগত মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়েও গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করি।
অতএব, প্রকাশিত ‘৯ হাজার কোটি টাকা প্রকল্পে আনোয়ার হোসেন শিকদারের রাজত্ব’ শীর্ষক প্রতিবেদনে আমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে আমি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি এবং প্রকাশিত সংবাদের প্রকৃত তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধনী ও প্রতিবাদ প্রকাশের আহ্বান জানাচ্ছি।
প্রতিবাদকারী
মোঃ আনোয়ার হোসেন সিকদার।
জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর ঢাকা।