1. masudkhan89@yahoo.com : admin :
  2. banglarmukhbd24@gmail.com : News Editor : News Editor
সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার সংশোধনে অর্থ উপদেষ্টার ‘না’

সাংবাদিক
  • আপডেট সময় : রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫ বার সংবাদ দেখেছেন

বাংলা রিপোর্ট//বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন আপাতত হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২ সংশোধনের উদ্যোগ থেমে গেছে। এর ফলে সরকারের ব্যাংকিং খাত সংস্কারের উদ্যোগ একেবারে ভেস্তে গেলো।

অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে এ ধরনের একটি মৌলিক আইনে সংশোধনী আনা বাস্তবসম্মত নয়, এমন অবস্থান জানিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরকে চিঠি দিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। ফলে গভর্নরকে মন্ত্রী পদমর্যাদা দেওয়া, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বাধীনতা জোরদার করা এবং জাতীয় সংসদের কাছে সরাসরি দায়বদ্ধতা নিশ্চিতের প্রস্তাবগুলো আপাতত বাস্তবায়িত হচ্ছে না।

দীর্ঘ প্রক্রিয়া, কিন্তু শেষ মুহূর্তে অনিশ্চয়তা

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, ব্যাংক খাতকে রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক প্রভাবমুক্ত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাঠামোগত সংস্কার দীর্ঘদিনের দাবি। সেই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কারিগরি সহায়তায় বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি বিশেষ টিম খসড়া প্রস্তুত করে। খসড়াটির আইনি যাচাইও করা হয়।

২০২৫ সালের ১৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বিশেষ সভায় বিষয়টি আলোচনায় আসে। পরবর্তীতে পর্যবেক্ষণ যুক্ত করে ২৭ আগস্ট আরেকটি পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সব প্রক্রিয়া শেষে গত বছরের অক্টোবরের মাঝামাঝিতে সংশোধনী প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু চার মাসের বেশি সময় ধরে প্রস্তাবটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পড়ে থাকলেও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।

কি ছিল সংশোধনের মূল প্রস্তাব

প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল—গভর্নর ও ডেপুটি গভর্নর নিয়োগ ও অপসারণে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ কমানো। পরিচালনা পর্ষদে আমলাতান্ত্রিক উপস্থিতি সীমিত করা। শুরুতে পর্ষদে কোনও আমলা না রাখার প্রস্তাব থাকলেও পরে তা সংশোধন করা হয়। সরকারের একজন প্রতিনিধি, ছয়জন স্বতন্ত্র বিশেষজ্ঞ এবং গভর্নর ও একজন ডেপুটি গভর্নরের সমন্বয়ে পর্ষদ গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তারা মনে করেন, এই পরিবর্তনগুলো কার্যকর হলে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে আরও স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক ভূমিকা রাখতে পারতো।

অর্থ উপদেষ্টার অবস্থান: ‘পরবর্তী সরকারের জন্য যুক্তিযুক্ত’

সম্প্রতি গভর্নরের চিঠির জবাবে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ লিখিতভাবে জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা ও সুশাসন কাঠামো শক্তিশালী করার উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার একটি মৌলিক আইন। তাই এতে সংশোধন আনতে হলে বিস্তারিত পর্যালোচনা, অংশীজন ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনা প্রয়োজন।

চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে এ ধরনের ব্যাপক সংশোধনী আনা বাস্তবসম্মত নয়। বরং পরবর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রয়োজন অনুযায়ী আইনটি পর্যালোচনা ও সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়াই অধিকতর যুক্তিযুক্ত হবে।

গভর্নরের হতাশা

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানান, তিনি এখনও ওই চিঠি হাতে পাননি। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার সংশোধন না হওয়াটা অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মনে করেন তিনি।

ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, “কেন এটি হলো না, তা আমার কাছে বোধগম্য নয়। আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ও সংস্কারের জন্য এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল। পরবর্তী সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি আবারও এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।”

আটকে যাওয়ার পেছনে ‘পাওয়ার গেম’

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের পেছনে কেবল সময়ের অজুহাত নয়, বরং রয়েছে আমলাতান্ত্রিক ক্ষমতার দ্বন্দ্ব। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনোমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার সংশোধনের খসড়া অনেক আগেই প্রস্তুত হয়েছিল। এই পর্যায়ে এসে আটকে যাওয়ার কোনও যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা নেই।”

তার মতে, সংশোধনীতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব ছিল—কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিত্ব তিনজন থেকে কমিয়ে একজন করা। এখানেই মূল ‘পাওয়ার গেম’। আমলাতন্ত্র তাদের কর্তৃত্ব কমাতে চায় না। ফলে ফাইলটি লাল ফিতার গিট্টুতে আটকে গেছে।

ড. জাহিদ হোসেনের ভাষায়, গত ডিসেম্বরের মধ্যেই এই অধ্যাদেশ জারি করা যেত। পরবর্তী সরকার করবে—এই বক্তব্য আসলে বিষয়টি ঠেকিয়ে রাখার কৌশল মাত্র। এটি করা যেত না, এমন কোনও বাস্তব বাধা ছিল না।

অন্যান্য সংস্কারও থমকে গেল

বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার ছাড়াও ব্যাংক খাত সংস্কারের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আইন সংশোধনের প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিবেচনায় থাকলেও সেগুলোর কোনোটিই অধ্যাদেশ আকারে জারি হয়নি। এর মধ্যে রয়েছে—
ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন (পর্ষদে পরিবারতন্ত্র ঠেকাতে), খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনায় অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি গঠন, অর্থঋণ আদালত আইন সংশোধন ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন সংশোধন।

তবে, আমানত বিমা আইন সংশোধন করে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে বিমার আওতায় আনা হয়েছে এবং আমানতকারীর বিমা কভারেজ এক লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে দুই লাখ টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ জারি করে পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। ছয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসায়ন প্রক্রিয়াও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

বড় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার সংশোধন না হওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়লো। রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সংস্কারের দায় পরবর্তী সরকারের কাঁধে ঠেলে দেওয়া হলেও প্রশ্ন থেকেই যায়—পরবর্তী সরকার আদৌ এই সাহসী সংস্কারে এগোবে কি না, নাকি এই প্রস্তাবও আবারও লাল ফিতার গিট্টুতে আটকে যাবে?

সামাজিক যোগাযোগ এ শেয়ার করুন

একই বিভাগের আরও সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২১ বাংলার মুখ বিডি
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট @ ইজি আইটি সল্যুশন