1. masudkhan89@yahoo.com : admin :
  2. banglarmukhbd24@gmail.com : News Editor : News Editor
সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০৮:০০ পূর্বাহ্ন

‘স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হতে বাংলাদেশ এখনও প্রস্তুত নয়’

সাংবাদিক
  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৫
  • ১০০ বার সংবাদ দেখেছেন

বাংলা রিপোর্ট//আগামী বছরের নভেম্বরে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে যাবে বাংলাদেশ। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মৎস্য ও পশুসম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার মনে করেন, এই রূপান্তরের জন্য বাংলাদেশ এখনও তৈরি না।

বুধবার (১৩ আগস্ট) প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশে নাগরিক উদ্যোগ ও পিপলস হেলথ মুভমেন্ট আয়োজিত ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যত নির্ধারণী উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উত্তরণ ও দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বিষয়ে সতর্ক পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে এই মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন— অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, ড. মোশাহিদা সুলতানা, ডা. জাহেদ মাসুদ, গওহর নাইম ওয়ারা ও সালাউদ্দিন বাবলু। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বরকত উল্লাহ মারুফ এবং বিভিন্ন কারিগরি বিষয় উপস্থাপন করেন সানিয়া রিড স্মিথ।

বিগত সরকারের একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছিল— স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে যাওয়া, জানিয়ে উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে কী বাংলাদেশ এখন প্রস্তুত না। আমরা পরিসংখ্যান বয়ে বেড়াচ্ছি, কিন্তু পরিসংখ্যান এবং বাস্তবতা ঠিক করতে পারছি না। সত্যিকার অর্থে যদি সময়টাও দেখেন, এখন যদি ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হয়, তবে গ্র্যাজুয়েশন এই সরকার করবে না।’

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে নিয়ম মেনে চলার জন্য কিছু প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। আমি সর্বশেষ যতটুকু জানি— তারা (সরকার) কিছু প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশ কিছু বাণিজ্য সুবিধা হারাবে জানিয়ে এই উপদেষ্টা বলেন, ‘একটি প্রতিযোগিতার সমস্যায় পড়বো, আমার দিক থেকে মনে হয়— একটা ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে পড়বো। কিন্তু এই সরকার এই মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেবে কিনা, আমি জানি না— গ্র্যাজুয়েশন করবে কিনা বা সময় পেছানোর কোনও অনুরোধ করবে কিনা – সেটি এখনও সরকারিভাবে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।’

সভায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বরকত উল্লাহ মারুফ। তিনি বলেন, আমরা উন্নয়নশীল দেশ বা উন্নত দেশ হবার বিরোধী নই। কিন্তু উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তর ও বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, যা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। সে ব্যাপারে দেশের সব অংশীজনের গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি জাতীয় কৌশলপত্র তৈরি করতে হবে। অন্যথায়, এই গ্র্যাজুয়েশন হবে আত্মঘাতী।’

থার্ড ওয়ার্ল্ড নেটওয়ার্কের গবেষক সানিয়া রিড স্মিথ বলেন, ‘বাংলাদেশ গ্র্যাজুয়েশনের ফলে এলডিসি হিসেবে প্রাপ্ত সুবিধা হারানোর ক্ষতিপূরণ করতে দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্যের দিকে ঝুঁকছে। কিন্তু এর ফলে বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে— কৃষকদের উচ্চমূল্যে বীজ ও সার কিনতে হবে। জনগণের চিকিৎসা ব্যয় অনেক বেড়ে যাবে এবং সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাবে।’

ড. মোশাহিদা সুলতানা বলেন, ‘সরকারের একটা প্রবণতা হচ্ছে— জাতীয় সক্ষমতা তৈরি না করে সস্তা আমদানি উৎসাহিত করা। আমাদের রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো ছোটখাট কৌশলের অভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, যার ফলে স্থানীয় চাষিরা পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. জাহেদ মাসুদ বলেন, ‘আমরা আমাদের ঐতিহ্যবাহী হাজার বছরের চিকিৎসা জ্ঞান, ইনডিজিনাস নলেজ হারিয়ে ফেলছি। আর ক্রমাগত বাজারভিত্তিক ওষুধের ওপর নির্ভরশীল হয়ে যাচ্ছি। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে হয়তো তা আমাদের জন্য আরও বিপদ বয়ে আনবে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে নারী।’

গবেষক নইম গওহর ওয়ারা বলেন, ‘এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনে যাব কী যাব না— সেই সিদ্ধান্তের চেয়েও বড় প্রশ্ন, আমরা এ বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে আগ্রহী কিনা। সামান্য নীতি ও কৌশলের অভাবে আমাদের মূল্যবান চামড়া সম্পদ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, আমরা গ্রাহ্যই করছি না।’

মেধাস্বত্ব বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট তাসলিমা জাহান বলেন, ‘আমাদের স্থানীয় আবিষ্কার বা পেটেন্ট এখনও অনেক পিছিয়ে আছে। হাজার বছরের কৃষিজ্ঞানসহ বাংলাদেশের জনগণের অধিকার যে মেধা সম্পত্তি আছে, তা সুরক্ষা করার ব্যবস্থা আমাদের করতে হবে— যা উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তর হলে হারিয়ে যেতে পারে।

নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন বলেন, ‘আমরা বেসরকারিভাবে জনস্বার্থে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন পর্যবেক্ষণ করবো। আমরা এ বিষয়ে গবেষণা করছি এবং প্রয়োজন হলে ইতিবাচক পরামর্শ দিতে আমরা প্রস্তুত।’

সামাজিক যোগাযোগ এ শেয়ার করুন

একই বিভাগের আরও সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২১ বাংলার মুখ বিডি
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট @ ইজি আইটি সল্যুশন