জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ||
প্রতিদিনই দেশজুড়ে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামনের কোরবানির ঈদে মানুষ স্বাস্থ্যবিধি না মেনে শহর ছেড়ে গ্রামে গেলে করোনার নতুন উপ-ধরন ‘বিএ.৪’ এবং ‘বিএ.৫’ আশঙ্কাজনকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এজন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে। সরকারিভাবে ব্যাপক প্রচার-প্রচারনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের দাবি, সংক্রমণ রোধে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বুধবার (৬ জুলাই) ১০ হাজার ২৩৩টি নমুনা পরীক্ষা করে ১ হাজার ৭২৮ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে। আগের দিন প্রায় ১২ হাজার নমুনা পরীক্ষা করে ১ হাজার ৯৯৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিল। বুধবার নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার বেড়ে ১৬ দশমিক ৮৯ শতাংশ হয়েছে। মঙ্গলবার তা ১৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ ছিল।
বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ২৯ হাজার ১৮৮ জনে।
দেশে ৬ জুলাই সকাল ৮টা থেকে ৭ জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত ১ হাজার ৭৯০ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে মোট ১৯ লাখ ৮৬ হাজার ৪৯০ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৯ লাখ ১০ হাজার ৪৭৭ জন।
আইসিডিডিআর’বির বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, দেশে নতুন করে করোনায় আক্রান্তদের নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গেছে, বর্তমানে বেশি সংক্রমণ ছড়াচ্ছে ওমিক্রনের নতুন দুই ধরন ‘বিএ.৪’ এবং ‘বিএ.৫’। তবে, এই উপধরনে সংক্রমণের হার বাড়লেও রোগীর মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তির হার কম। আইসিডিডিআর’বির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
করোনা মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় কারিগরি কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. আবু জামিল ফয়সাল বলেছেন, ‘গত বছর এ সময়ে বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছিল ডেল্টা ধরনের কারণে। এবার একই সময়ে সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণ ওমিক্রনের নতুন ধরন। ডেল্টার চেয়ে ওমিক্রন দুর্বল হওয়ায় এতে আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর ঝুঁকি কম। তারপরও সংক্রমণের হার বাড়ার কারণে বর্তমান পরিস্থিতিতে সামনের ঈদে মানুষ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা করা ও স্বাস্থ্যবিধি না মানলে ওমিক্রনসহ নতুন ধরনটির সবখানে ছড়িয়ে পড়বে। বর্তমান সংক্রমণে মৃত্যুর সম্ভাবনা কম থাকলেও এতে অন্য ধরনের রোগে আক্রান্ত ও বয়স্কদের মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হবে।’