স্পোর্টস ডেস্ক : আটলান্টায় শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে ডিআর কঙ্গোকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোয় উঠল ইংল্যান্ড। ১৯৬৬ সালের চ্যাম্পিয়নদের জয়ের নায়ক ছিলেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন। তবে পুরো ম্যাচটাই ছিল নাটকীয়। ১ গোলে পিছিয়ে গিয়েও শেষমেশ জয়ের মুখ দেখল কেইনের দল।
শুরু থেকেই দ্রুত আক্রমণে নামে ডিআর কঙ্গো। মাত্র সাত মিনিটেই এগিয়ে যায় তারা। ডি-বক্সের বাঁ দিক থেকে দারুণ এক ডান পায়ের শটে বল জালে পাঠান ব্রায়ান সিপেঙ্গা। এতে রীতিমতো চমকে যায় ইংল্যান্ড।
গোল খাওয়ার পর কঙ্গো জমাট রক্ষণে নেমে পড়ে। ইংলিশ আক্রমণ যেন কিছুটা দিশেহারা হয়ে পড়ে। এরই মধ্যে একটি ভয়াবহ মুহূর্ত আসে ইংল্যান্ডের জন্য। ডান পাশ থেকে ওয়ান-বিসাকার ক্রস ইংলিশ ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে চলে যায় ইয়োনে উইসার কাছে। তার প্রথম স্পর্শের শট গোলরক্ষককে ফাঁকি দিলেও বারপোস্টে লেগে বাইরে চলে যায়। হাঁফ ছেড়ে বাঁচে ইংল্যান্ড।
বিরতির কিছু আগে পেনাল্টির জন্য আবেদন করেন কেইন। গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসিকে একা পেয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। গোলরক্ষক এগিয়ে এসে জায়গা ছোট করে দেন, কেইনের গায়ে লেগে বল বাইরে চলে যায় এবং কেইন মাটিতে পড়ে যান। রেফারি শুরুতে কান না দিলেও ভিএআর পর্যন্ত গড়ায় বিষয়টা। তবে ভিএআরেও দেখা যায়, পেনাল্টি হওয়ার মতো যথেষ্ট স্পর্শ হয়নি। পেনাল্টি মেলেনি।
এরপর রাশফোর্ডের একটি জোরালো শট ঠেকিয়ে দেন ওয়ান-বিসাকা। মজার বিষয় হলো, দুজনেই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে একই ড্রেসিং রুম ভাগাভাগি করেছেন। বেলিংহামের শটও আটকে যায় কঙ্গো রক্ষণে। ফলে বিরতিতে ০-১ গোলে পিছিয়ে থেকেই মাঠ ছাড়তে হয় টুখেলের দলকে।
দ্বিতীয়ার্ধে ৭৪ মিনিটে সমতা ফেরান কেইন। বাঁ পাশ থেকে অ্যান্থনি গর্ডনের ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে বল জালে পাঠান ইংল্যান্ড অধিনায়ক।
এরপর ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। ৯০ মিনিটের মাত্র পাঁচ মিনিট বাকি থাকতে আবার মাঠ মাতান কেইন। গর্ডন বক্সের সামনে তাকে পাস দেন। বক্সে ঢুকে ডান পাশে সামান্য ফাঁকা জায়গা পান কেইন। গোলপোস্ট তখন তার দৃষ্টির বাইরে থাকলেও শটটা ঠিকই জালে জড়িয়ে যায়। মোক্ষম সময়ে জয়সূচক গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড।
শেষমেশ ২-১ ফলেই শেষ হয় ম্যাচ। ডিআর কঙ্গোর হৃদয় ভেঙে শেষ ষোলোর টিকিট কাটে ইংল্যান্ড। পরের ম্যাচে তারা মুখোমুখি হবে মেক্সিকোর।