আন্তর্জাতিক ডেস্ক//ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে আরও কয়েক হাজার অতিরিক্ত সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতির দাবি করছে, অন্যদিকে দ্রুত কোনও চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারলে যুদ্ধ আরও তীব্র করার হুমকি দিচ্ছে। এই দ্বিমুখী কৌশলের অংশ হিসেবেই রণতরি ও প্যারাট্রুপার মোতায়েনের এই বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ মোতায়েন করা হয়েছে। তিনটি ডেস্ট্রয়ারসহ এটি মধ্যপ্রাচ্যের দিকে রওনা হয়েছে। এই ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপে ৬ হাজারেরও বেশি নৌ-সেনা রয়েছে। সংবেদনশীল সামরিক পরিকল্পনা হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
একই সঙ্গে মার্কিন ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের হাজার হাজার সেনাও মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাতে শুরু করেছে। যদিও এই সেনাদের বড় অংশটি আগে থেকে নির্ধারিত নিয়মিত রোটেশনের অংশ, তবে এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৫০০ প্যারাট্রুপার রয়েছেন যাদের গত সপ্তাহে জরুরি ভিত্তিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় ট্রাম্প প্রশাসন।
এই অতিরিক্ত সেনারা সেখানে ঠিক কী ধরনের অভিযানে অংশ নেবেন, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস স্পষ্ট করে কিছু বলেনি। তবে ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশন মূলত শত্রুবেষ্টিত বা বিতর্কিত এলাকায় আকাশ থেকে প্যারাট্রুপার নামিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল ও বিমানঘাঁটি দখল করার কাজে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত। এর পাশাপাশি ক্যালিফোর্নিয়া থেকে আরও ২ হাজার ৫০০ মেরিন সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে। সম্প্রতি আরও ২ হাজার ৫০০ মেরিন সেনাবাহী একটি জাহাজ মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে ১০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি স্থল অভিযান চালানো হবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের মুখে প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ মঙ্গলবার বলেন, আপনি যদি আপনার শত্রুপক্ষকে আগেই বলে দেন যে আপনি কী করবেন বা করবেন না, তবে সেই যুদ্ধে জেতা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, আমাদের শত্রুরা এখন ভাবছে যে অন্তত ১৫টি উপায়ে আমরা তাদের ওপর স্থল হামলা চালাতে পারি। আর সত্যি বলতে, আমাদের সেই সক্ষমতা আছে।
তবে হেগসেথ উল্লেখ করেছেন যে, তাদের মূল লক্ষ্য আলোচনার মাধ্যমে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো, যাতে সামরিক শক্তি বেশি ব্যবহার করতে না হয়।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ও সেনাদের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করছে। গত ১২ মার্চ বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড-এর লন্ড্রি রুমে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এর ফলে জাহাজটি লোহিত সাগর থেকে ভূমধ্যসাগরের দিকে ফিরে যেতে বাধ্য হয় এবং গ্রিসের একটি নৌ-ঘাঁটিতে মেরামতের কাজ চলে।
নৌবাহিনীর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ওই আগুনে জাহাজের সাতটি থাকার ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে শত শত নৌ-সেনাকে অন্যত্র ঘুমানোর ব্যবস্থা করতে হয়েছে এবং তাদের ব্যক্তিগত মালামাল নষ্ট হয়েছে। মেরামত শেষে জাহাজটি এখন ক্রোয়েশিয়াতে অবস্থান করছে।
নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা অ্যাডমিরাল ড্যারিল কডল জানিয়েছেন, ইউএসএস ফোর্ড সম্ভবত মোতায়েনের সময়ের দিক থেকে নতুন রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে। জাহাজটি টানা ১১ মাস ধরে সাগরে অবস্থান করছে। গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার অভিযানে অংশ নেওয়ার পর একে সরাসরি ইরান যুদ্ধের সমর্থনে পাঠানো হয়। আগামী মে মাসের শেষের দিকে এটি ভার্জিনিয়ার নরফোক বন্দরে ফিরতে পারে।
অ্যাডমিরাল কডল বলেন, নৌবাহিনীর বাইরে থাকা সাধারণ মানুষের জন্য এত দীর্ঘ সময় সাগরে মোতায়েন থাকার বিষয়টি চিন্তা করাও এক অসাধারণ ব্যাপার।
এর আগে জানুয়ারিতে বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে পৌঁছেছিল।