বাংলা রিপোর্ট//‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-কে অন্তর্বর্তী সরকারের ‘অন্তহীন প্রতারণার দলিল’ ও ‘জাতীয় প্রতারণা’ বলে আখ্যায়িত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ। তিনি সংসদে বলেছেন, “এই আদেশের কোনও আইনি বৈধতা নেই এবং এটি সূচনা থেকেই অবৈধ।”
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার উত্থাপিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ শীর্ষক নির্ধারিত আলোচনার জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এই আদেশটি অন্তর্বর্তী সরকারের অন্তহীন একটি প্রতারণার দলিল। এটি আমি আজকে আবার পুনরুচ্চারণ করছি। রাজনৈতিক দলগুলোর দেওয়া ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) এই আদেশে উল্লেখ না করে এটি জাতির সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা একটি জাতীয় প্রতারণা।”
আদেশের আইনি দিক তুলে ধরে সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “১৯৭৩ সালের ৭ এপ্রিলের পর রাষ্ট্রপতির আর এ ধরনের আদেশ জারির ক্ষমতা ছিল না। তাহলে রাষ্ট্রপতি এই আদেশ জারি করলেন কীভাবে? যেই আদেশের জন্মই বৈধ হলো না, সেই আদেশ লিগ্যাল ল্যাঙ্গুয়েজে ‘ভয়েড অ্যাব ইনিশিও’ বা সূচনা থেকেই বাতিল। এটি অধ্যাদেশও নয়, আইনও নয়।”
গণভোটের ব্যালট নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, “গণভোটের ব্যালটে চারটি প্রশ্ন দিয়ে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দিতে বাধ্য করা হয়েছে। এটি তো কলার ভেতরে তিতা ওষুধ ঢুকিয়ে জোর করে খাওয়ানোর মতো অবস্থা। কোনও আইনকে আপনি জাতিকে এভাবে বাধ্য করে খাওয়াতে পারেন না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো একটি অন্তর্বর্তী সরকার মৌলিক কোনও বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার রাখে না।”
সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ নেওয়া প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “অস্তিত্বহীন একটি পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কোনও আইনি বিধান নেই। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এই শপথের ফরম সংসদে পাঠানোর এখতিয়ার রাখেন না। তিনি সংবিধান সংরক্ষণের শপথ নিয়ে নিজেই তা ভঙ্গ করেছেন।”
বিএনপির দলীয় অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি বলেন, “সারা দেশে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে যে বিএনপি সংস্কার চায় না বা জুলাই জাতীয় সনদ মানে না। কিন্তু, আমরা ঐতিহাসিকভাবে স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি অক্ষর, শব্দ ও বাক্য ধারণ করি। আমরা রাজনৈতিক সমঝোতার দলিলের ভিত্তিতে সংস্কার চাই, কোনও অবৈধ আদেশের ভিত্তিতে নয়। দেশের জনগণ বিএনপিকে ৫১ শতাংশ ভোট দিয়ে ম্যান্ডেট দিয়েছে।”
রাষ্ট্র কাঠামো মেরামত প্রস্তাব তুলে ধরে সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমি সংসদ নেতার (প্রধানমন্ত্রী) পক্ষে প্রস্তাব রাখছি—সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্র সদস্যদের সমন্বয়ে সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন করা হোক। ওই কমিটিতে সবার আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে জনপ্রত্যাশিত একটি সংবিধান সংশোধনী বিল এই মহান সংসদে উত্থাপন ও গ্রহণ করা হোক।”