1. masudkhan89@yahoo.com : admin :
  2. banglarmukhbd24@gmail.com : News Editor : News Editor
বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০৪ অপরাহ্ন

পারমানবিক হামলার হুমকি ইরান ভয় পায় না: রাষ্ট্রদূত

সাংবাদিক
  • আপডেট সময় : বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫ বার সংবাদ দেখেছেন

বাংলা রিপোর্ট//ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহীমি জাহানাবাদী বলেছেন, এখন ইরানকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, পারমাণবিক বোমা বর্ষণের। কিন্তু ইরান এতে ভিত নয়। হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ এবং আধিপত্য রক্ষায় কাজ করছে ইরান। এই যুদ্ধ ইরানের বিরুদ্ধে নয়, এটি মুসলিম উম্মাহ বিরুদ্ধে, ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ।

বুধবার (১ এপ্রিল) ইরান দূতাবাসে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশে আটকে থাকা ছয়টি জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার বিষয়ে অনুমতি দিয়েছে ইরানের নিরাপত্তা কাউন্সিল। ইরান কখনোই চায় না, যুদ্ধ প্রলম্বিত হোক। আমাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে, ইরান প্রতিরক্ষামূলক যুদ্ধে নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে।

জলিল রহীমি জাহানাবাদী বলেন, আমেরিকার আগ্রাসন একমাসের বেশি সময় অতিবাহিত করছি। যুদ্ধটা তখনই তারা শুরু করে, যখন ওমানের মধ্যস্থতায় ভালোভাবে আলোচনা চলছিল। ইসরায়েলের উসকানিতে এ যুদ্ধ আমেরিকা শুরু করেছেন। পুরো মধ্যপাচ্যকে যুদ্ধে নিয়ে এসেছে।

ইরানের রাষ্ট্রদূত দাবি করেন, ইসরায়েলের প্ররোচনায় যুদ্ধে পা দিয়েছে ট্রাম্প, এবং এখন পালানোর পথ খুঁজছে।

তিনি বলেন, যুদ্ধেরও একটা নীতি থাকে। যুদ্ধের নামে স্কুল-কলেজে শিশুদের ওপর আক্রমণ করবে, এটা হতে পারে না। তারা যুদ্ধের নামে কীভাবে সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণের ওপর হামলা করেছে। এখানে কি ইরান অস্ত্র তৈরি করেছিল? এটা কি সামরিক ঘাঁটি ছিল? শিশুরা কি আমেরিকা, ইসরাইলের জন্য হুমকি ছিল? আমেরিকা, ইসরায়েল যে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা বলে, তার মধ্যে কি এটা পড়ে না? মুসলমান হওয়া কি অপরাধ? আমাদের মসজিদগুলোতে তারা মনে করে উগ্রবাদের আখড়া। তারা মুসলিম বিশ্বকে ধ্বংস করে দিতে চায়।

তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আমেরিকার ১৪টি ঘাঁটিকে ধ্বংস করে দিয়েছি। প্রতিবেশি আরব দেশগুলোর ঘাঁটি থেকে বিমানে করে ইরানে বোমা বর্ষণ করা হচ্ছে, নারী-শিশু মারা যাচ্ছে। ইরানের প্রযুক্তি ধ্বংস করা এবং ইউরেনিয়াম উদ্ধারের নামে আমেরিকার যারা শুরু করেছিল, তাতে তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। আমেরিকা পারস্য উপসাগর ছেড়ে পালিয়েছে। এখন ট্রাম্প সুযোগ খুঁজছে, যে তারা বিজয়ী হয়েছে। বলতে চাইলে বলুক, আসলে কি আমাদের শাসন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে পেরেছেন?

জলিল রহীমি জাহানাবাদী বলেন, আমেরিকা, ইসরায়েল বুঝবে না, তারপরও বলি, বিশ্ব এখন আর আমেরিকার কথায় চলবে না। হরমুজ প্রণালীতে থাকা ছয়টি বাংলাদেশি জাহাজ ফেরত আনার বিষয়ে কাজ করছে ইরান-বাংলাদেশ। বাংলাদেশিদের ফেরত আনতে সাহায্য করায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। যদিও, যুদ্ধ নিয়ে বাংলাদেশের বিবৃতি নিয়ে ইরানের দুঃখের বিষয় রয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ প্রকাশের সঙ্গে নিন্দা জানানো প্রয়োজন।

রাষ্ট্রদূতের মতে, বাংলাদেশ হলো ইরানের ভাই। দুর্দিনে এক ভাই আরেক ভাইয়ের পাশে থাকবে, এটাই আশা করি। পাকিস্তান উদ্যোগ গ্রহণ করলে আমরা স্বাগত জানাবো। যুদ্ধের মাধ্যমে তারা যা অর্জন করতে পারি নাই, তা এখন আলোচনা মাধ্যমে করার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, বিপদে পড়েই আমেরিকা এখন যুদ্ধ বন্ধ করতে চাচ্ছে। আমেরিকার ১৫ দফা প্রস্তাবের কোনও উত্তর দেয়নি ইরান। আমেরিকার সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি। আমরা তুরস্ক, পাকিস্তানের মধ্যস্ততাকে স্বাগত জানাই। তবে, যুদ্ধকে আমরা এমন অবস্থায় নিয়ে যেতে চাই যাতে, আমেরিকা আর ইসরায়েল আর কোনও দেশের ওপর এমন আগ্রাসন চালাতে না পারে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ১০০ বারের বেশি নিজেদের বিজয়ী ঘোষণা করেছেন। দুঃখের বিষয় হলো, আমেরিকায় এমন প্রেসিডেন্ট এখন যে নিজেকেও বোঝে না, মধ্যপ্রাচ্যকেও বোঝে না। অথচ, সে সবার জন্য চরম বিপদ ডেকে এনেছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, একটি দেশ যখন অবৈধভাবে জাতিসংঘ সনদকে উপেক্ষা করে আরেকটি দেশের ওপর হামলা চালিয়েছে, আমরা চাই, এর নিন্দা জানানো হোক। যদি তা না করা হয়, তবে সেই দেশও কোনও না কোনও সময়, এই আগ্রাসী শক্তির আগ্রাসনের শিকার হতে পারে। আমরা কোনও প্রতিবেশি দেশে আক্রমণ করছি না, আমরা মার্কিন ঘাঁটিতে আক্রমণ করছি। দোষ ওইসব দেশের, যারা মার্কিন ঘাঁটি করার অনুমতি দিয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইরান বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ। যুদ্ধ সম্পর্কে ঢাকার বিবৃতি সম্পর্কে অসন্তুষ্টি নিয়ে কোনও অফিসিয়াল চিঠি দেবে না ইরান। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জানানো হবে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো শক্তিশালী দেশগুলোর হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত তারা কি কোনও প্রস্তাব পাস করতে পেরেছে? জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামোকে আমরা সঠিক মনে করি না। অভিজ্ঞতা থেকে আমরা শিখেছি, বিপদে জাতিসংঘের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না। নিজেদের সাহায্য নিজেরা করতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগ এ শেয়ার করুন

একই বিভাগের আরও সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২১ বাংলার মুখ বিডি
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট @ ইজি আইটি সল্যুশন