বাংলা রিপোর্ট//বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীককে বিজয়ী ঘোষণা এবং নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি দমনের পরিকল্পনা সংক্রান্ত জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদফতরের (এনএসআই) নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কথিত ‘অতি গোপনীয়’ নথিটি সম্পূর্ণ ভুয়া ও বানোয়াট। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের ফ্যাক্ট চেক বিভাগ এবং এনএসআই সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সম্প্রতি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া ওই কথিত নথিতে দাবি করা হয়, পোস্টাল ব্যালটের ৭৫ শতাংশ জামায়াতের পক্ষে দেখানো এবং দলটিকে বিজয়ী করা একটি ‘অপরিবর্তনীয় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত’। ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় যেকোনও ভিন্নমত বা প্রতিবাদ দমনে ‘শূন্য-সহিষ্ণুতা’ নীতি গ্রহণের পরিকল্পনার কথাও সেখানে উল্লেখ করা হয়।
উল্লেখ্য, কথিত নথিটিতে আদর্শিক ও কৌশলগত ভিত্তি, ফলাফল ও তথ্য ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ, যোগাযোগ ও কোড ল্যাঙ্গুয়েজ, গোপনীয় বিতরণ তালিকা এবং বিশেষ সতর্কবার্তা এই ছয়টি শিরোনাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিটি শিরোনামের অধীনে নির্বাচন ফলাফল ঘোষণা ও নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন ধরনের দিকনির্দেশনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, এনএসআইর নামে ছড়ানো এই নথিতে একাধিক অসামঞ্জস্য ধরা পড়েছে। নথির শুরুতে স্মারক নম্বর ইংরেজিতে হলেও শেষে বাংলায় হাতে লেখা সংখ্যা ব্যবহার করা হয়েছে। তারিখের ফরম্যাটও সরকারি প্রচলিত নিয়মের সঙ্গে মেলে না। একইভাবে, অনুলিপি প্রেরণের ক্ষেত্রেও সরকারি নথির স্বাভাবিক ফরম্যাট অনুসরণ করা হয়নি। পাশাপাশি, পুরো লেখার ভাষা ও উপস্থাপনায় কৃত্রিমতার লক্ষণ দেখা যায়। বিশেষ করে ড্যাশ চিহ্নের (—) ব্যবহার, সংক্ষিপ্ত রূপ যেমন এনএসআই, ইসি ও সিইসি ইংরেজিতে লেখা এবং শব্দচয়নে অস্বাভাবিকতা লক্ষ করা যায়।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং ফ্যাক্টস জানিয়েছে, এনএসআইয়ের নামে ছড়ানো কথিত গোপন নথিটি আসল নয়। কোনও নির্ভরযোগ্য সূত্র ছাড়াই ডিজিটাল এডিটিংয়ের মাধ্যমে এনএসআইর নাম ব্যবহার করে এই ভুয়া নথিটি তৈরি করা হয়েছে।
এদিকে গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইর বরাতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এমন কোনও পরিকল্পনার অস্তিত্ব নেই এবং প্রকাশিত বিষয়টি পুরোপুরি ভিত্তিহীন। নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যেই কোনও একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এছাড়াও আলোচিত নথি নিয়ে দেশ রূপান্তর পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে এনএসআই সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের বরাতে জানানো হয়েছে, এমন কোনও পরিকল্পনার বিষয়টি পুরোপুরি অসত্য।
সুতরাং, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীককে বিজয়ী করতে এনএসআইয়ের নামে ছড়ানো কথিত গোপন নথিটি ভুয়া ও বানোয়াট।