আন্তর্জাতিক ডেস্ক//ইরানে যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় পুরোপুরি বন্ধ থাকলেও ইরানের কিছু মানুষ এখনও ইলন মাস্কের স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছেন। এমনটাই রয়টার্সের কাছে দাবি করেছেন দেশটির ভেতরে থাকা তিনজন ব্যক্তি। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ইন্টারনেট বন্ধের বিরুদ্ধে বিকল্প যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে স্টারলিংকের ব্যবহার সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
রয়টার্সকে পশ্চিম ইরানের একজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে কয়েক ডজন স্টারলিংক ব্যবহারকারীকে চেনেন। তিনি আরও বলেছেন, সীমান্তবর্তী শহর ও জনপদগুলোতে ব্যবহারকারীরা তুলনামূলকভাবে কম সমস্যায় পড়েছেন।
সাম্প্রতি ইরানি কর্তৃপক্ষ দেশব্যাপী বিক্ষোভ দমনে কঠোর ও প্রাণঘাতী অভিযান শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে ফাইবার অপটিক কেবল ও মোবাইল টাওয়ারভিত্তিক প্রায় সব ধরনের ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইরান প্রথম দেশ হিসেবে স্টারলিংককে ব্লক করার চেষ্টা করলেও ইরানে ইলন মাস্কের স্টারলিংক ইন্টারনেট সম্পূর্ণ অচল হয়নি। যদিও কিছু বিক্ষিপ্ত এলাকায় সীমিত আকারে সেবা সচল রয়েছে এবং বিক্ষোভকারীরা এটি ব্যবহার করে বাইরের বিশ্বে তথ্য আদান-প্রদান করছে।
ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকসের প্রতিষ্ঠাতা আলপ টোকার বলেছেন, ইরানের বিভিন্ন সূত্র থেকে তিনি জেনেছেন যে ইরানে এখনো কিছুটা স্টারলিংক সংযোগ রয়েছে, যদিও সেবার মাত্রা কমে গেছে। ইন্টারনেট সংযোগ অসমান বা খণ্ড খণ্ড হলেও এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
টোকার আরও জানিয়েছেন, ৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া দেশব্যাপী ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট সোমবারও অব্যাহত ছিল। নেটব্লকসের স্থির ও মোবাইল ইন্টারনেট তথ্য অনুযায়ী, স্যাটেলাইট ছাড়া অন্যান্য ইন্টারনেট সংযোগ স্বাভাবিক সময়ের মাত্র প্রায় ১ শতাংশে নেমে এসেছে। ইরানে স্টারলিংকের সেবা কীভাবে ব্যাহত করা হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়। তবে কিছু বিশেষজ্ঞের ধারণা, স্টারলিংক টার্মিনালে জ্যামিং করা হতে পারে, যাতে স্যাটেলাইট থেকে আসা সংকেত গ্রহণ করার ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যায়।
রয়টার্সের সংবাদ উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের মালিকানাধীন স্টারলিংক এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি। ফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ থাকায় সোমবার ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যায়নি।