আন্তর্জাতিক ডেস্ক//রাখাইনের রোহিঙ্গা মুসলিম সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে করা মামলার শুনানি সোমবার (১২ জানুয়ারি) জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) শুরু হতে যাচ্ছে। এক দশকেরও বেশি সময় পর এটিই প্রথম কোনও গণহত্যা মামলা, যেটির পূর্ণাঙ্গ শুনানি হবে আইসিজেতে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
এই মামলাকে ঐতিহাসিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ এই মামলার রায় শুধু মিয়ানমারের জন্য নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে এর প্রভাব গাজা যুদ্ধ নিয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার করা মামলাতেও পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক স্বাধীন তদন্ত ব্যবস্থার প্রধান নিকোলাস কুমজিয়ান বলেছে, এই মামলায় গণহত্যার সংজ্ঞা কী, কীভাবে তা প্রমাণ করা যায় এবং কীভাবে এর প্রতিকার নিশ্চিত করা যায়, এসব বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করবে।
আইসিজেতে ২০১৯ সালে মুসলিম অধ্যুষিত পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া এই মামলা দায়ের করে। অভিযোগে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে বসবাসকারী মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে দেশটি গণহত্যা চালিয়েছে। মিয়ানমার বরাবরের মতোই গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘের একটি অনুসন্ধানী মিশন এর আগে জানিয়েছিল, ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক অভিযানে ‘গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড’ অন্তর্ভুক্ত ছিল। ওই অভিযানের ফলে প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। মিয়ানমার অবশ্য জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট ও ত্রুটিপূর্ণ’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল। দেশটি দাবি করেছিল, তাদের অভিযান ছিল রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে।
এই মামলা ১৯৪৮ সালের গণহত্যা সনদের আওতায় আনা হয়েছে। নাৎসি হলোকাস্টের পর এই সনদ প্রণীত হয়। এতে গণহত্যাকে এমন কর্মকাণ্ড হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, যার উদ্দেশ্য কোনও জাতি, জাতিগত, বর্ণগত বা ধর্মীয় গোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস করা।