বাংলা রিপোর্ট//বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও মানসিক বিকাশে সরকার ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ। তিনি বলেন, এসব শিশুদের জন্য কেবল সহানুভূতি নয়, বরং টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নিশ্চিত করা জরুরি।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) ঢাকার খিলক্ষেতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিবার কল্যাণ সংঘের উদ্যোগে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান ‘আশার আলো ঢাকা’র নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিবার কল্যাণ সংঘের (বিএনএফডব্লিউএ) প্রেসিডেন্ট নাদিয়া সুলতানা। এ সময় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা কমিশন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং নৌবাহিনী ও বিভিন্ন দাতা প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি ঢাকা নৌ অঞ্চলের সামরিক ও অসামরিক ব্যক্তিবর্গ, চেয়ারম্যান বিএন লেডিস ক্লাব ঢাকা, চেয়ারম্যান নৌ পরিবার কল্যাণ সংঘ ঢাকা এবং কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ‘বিশেষ শিক্ষার অধিকার’— এই মূলমন্ত্র ধারণ করে প্রতিষ্ঠানটিতে অটিজম, সেরিব্রাল পালসি ও ডাউন সিনড্রোমসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির বিশেষ শিশুদের জন্য শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) জানায়, এই প্রতিষ্ঠানে আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি থেরাপি জোন, ইনডোর প্লে এরিয়া, হাইড্রোথেরাপি পুল এবং আউটডোর সেন্সরি গার্ডেন নির্মাণ করা হবে। অবকাঠামোগত নকশায় শিশুদের সহজ চলাচলের জন্য র্যাম্প ও লিফটসহ বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
শারমীন এস মুরশিদ তার বক্তব্যে বলেন, বিশেষ শিশুদের জন্য শিক্ষা ও থেরাপিভিত্তিক সেবা নিশ্চিত করা সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। এই ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। তিনি প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক প্রচার ও উন্নয়নে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে ‘আশার আলো চট্টগ্রাম’ ১৮তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবসে দেশের শ্রেষ্ঠ বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। সেই ধারাবাহিকতায় ‘আশার আলো ঢাকা’ প্রকল্পটি বিশেষ শিশুদের প্রতি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সামাজিক দায়বদ্ধতার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।