বাংলা রিপোর্ট//মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন সংসদে জানিয়েছেন, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ন্যাশনাল টোলফ্রি হেল্পলাইন-১০৯ সপ্তাহের ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা সেবা প্রদান করছে। গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ হেল্পলাইনে মোট ৮৭ লাখ ৮ হাজার ১৪৯টি কলে সাড়া দিয়ে নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশু, তাদের পরিবার এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১২তম দিনে জামালপুর-২ আসনের সংসদ সদস্যের তারকা চিহ্নিত লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। প্রশ্ন-উত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।
মন্ত্রী বলেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ, আইনি সহায়তা ও কাউন্সেলিং সেবা জোরদারে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
নারী নির্যাতন প্রতিরোধে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন আইন এবং বিধিমালা রয়েছে। আইনগুলো হলো— নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত-২০২০); পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০; ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড (ডিএনএ) আইন, ২০১৪; বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭; যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮।
বিধিমালাগুলো হলো— পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) বিধিমালা, ২০১৩; বাল্যবিবাহ নিরোধ বিধিমালা, ২০১৮; ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড (ডিএনএ) বিধিমালা, ২০১৮।
মন্ত্রী আরও বলেন, নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুকে তাৎক্ষণিক সহায়তা দিতে এই মন্ত্রণালয়ের অধীন ৬ বিভাগীয় শহরে (ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট) নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সেল এবং নির্যাতিত নারীদের সাময়িক অবস্থানের জন্য ‘সেইফ হোম’ রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সেবা একস্থান থেকে দেওয়ার উদ্দেশে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পর্যায়ক্রমে মোট ৩৭টি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে। বর্তমানে মোট ১৪টি ওসিসি স্থাপন করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত মোট ৮০ হাজার ৩৯৫ জনকে চিকিৎসা, আইনী, পুলিশী ও মনো সামাজিক কাউন্সিলিং সেবা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেলে দেশব্যাপী নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের প্রয়োজনীয় সেবাপ্রাপ্তির সুবিধার্থে জেলা সদর হাসপাতাল এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ৯৫টি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেল স্থাপন করা হবে। বর্তমানে মোট ৬৭টি (৪৭টি জেলা সদর হাসপাতাল এবং ২০টি উপজেলা) স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেল স্থাপন করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সাল পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৬৬ হাজার ৫৭০ জন নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ করেছেন।
মন্ত্রী বলেন, নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুর দ্রুত এবং ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ক্যাম্পাসে ন্যাশনাল ফরেনসিক প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরি এবং ৭টি বিভাগীয় ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়েছে। এ ল্যাবরেটরি ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত মোট ৪০ হাজার ৪০৫টি নমুনার ডিএনএ প্রোফাইলিং সম্পন্ন করেছে। নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের জন্য মনোসামাজিক কাউন্সেলিং সহায়তাকে অধিকতর জোরদার ও ফলপ্রসু করার লক্ষ্যে প্রোগ্রামের উদ্যোগে ঢাকায় ন্যাশনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টার এবং ৪টি রিজিওনাল ট্রমা কাউন্সেলিং স্থাপন করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ৩৭ হাজার ৬২১ জন নারী ও শিশুকে মনোসামাজিক কাউন্সিলিং দেওয়া হয়।