1. masudkhan89@yahoo.com : admin :
  2. banglarmukhbd24@gmail.com : News Editor : News Editor
রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪৭ অপরাহ্ন

অনিশ্চয়তায় যুদ্ধবিরতি হামলা-পাল্টা হামলার মধ্যেই আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

সাংবাদিক
  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫ বার সংবাদ দেখেছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক//যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি কার্যকরের আগেই ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। লেবাননে ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলা এবং ইরানের লাভান দ্বীপে একটি জ্বালানি কেন্দ্রে রহস্যজনক হামলার পর বুধবার পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই অস্থিতিশীলতার মধ্যেই শনিবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দুই পক্ষের মধ্যে পরিকল্পিত বৈঠকটি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এ খবর জানিয়েছে।

পাল্টাপাল্টি হামলা ও উত্তপ্ত অঞ্চল

লাভান দ্বীপে হামলার প্রতিবাদে বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার ও সৌদি আরবে কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যে নিয়োজিত এক পশ্চিমা কর্মকর্তার মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মন্তব্য এই উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে। ট্রাম্প এবিসি নিউজকে বলেছিলেন, তিনি ইরানের সঙ্গে ‘যৌথ বিনিয়োগের’ কথা ভাবছেন, যেখানে দুই দেশ মিলে জাহাজ থেকে টোল আদায় করবে।

এই মন্তব্যে আরব উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে যে, ওয়াশিংটন হয়তো তাদের স্বার্থের তোয়াক্কা না করেই তেহরানের সঙ্গে চুক্তি করছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত এরই মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে ‘আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা’ দাবি করেছে এবং ইরানকে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি বাবদ ‘ক্ষতিপূরণ’ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে ইরানও সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে অনড়।

হরমুজ প্রণালি ও লেবানন সংকট

বুধবার ইরান ঘোষণা করেছে যে, লেবাননে হামলা ও লাভান দ্বীপে অগ্নিকাণ্ডের প্রতিবাদে তারা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিচ্ছে। যদিও হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট দাবি করেছেন যে জলপথটি খোলা আছে এবং সেখানে জাহাজ চলাচল বেড়েছে, তবে ভেসেল-ট্র্যাকিং তথ্য সেই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি।

এদিকে লেবানন ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের সমন্বয়হীনতা প্রকাশ পেয়েছে। বুধবার লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ২৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত ও ৭০০ জন আহত হয়েছেন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স একে ‘আইনগত ভুল বোঝাবুঝি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘ইরান ভেবেছিল যুদ্ধবিরতিতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু আসলে তা নয়। আমরা কখনোই এমন প্রতিশ্রুতি দিইনি।’

অথচ গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ তার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে স্পষ্টভাবে লিখেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান তাদের মিত্রদের নিয়ে ‘লেবাননসহ সব জায়গায়’ অবিলম্বে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ: মূল ‘রেড লাইন’

বিশ্লেষকদের মতে, হিজবুল্লাহর জন্য ইরান হয়তো শেষ পর্যন্ত লড়াই করবে না, কিন্তু ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার তাদের জন্য ‘রেড লাইন’। স্টিমসন সেন্টারের গবেষক রান্ডা স্লিম বলেন, ‘আসল সমস্যা হলো ইউরেনিয়াম। ইরান তাদের ১০ দফা দাবিতে এটি অন্তর্ভুক্ত করেছে।’

ট্রাম্প শুরুতে ইরানের ১০ দফাকে ‘আলোচনার ভিত্তি’ বললেও পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় উল্টো সুর ধরেন। তিনি লিখেছেন, ‘ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ হবে না। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে মিলে মাটির নিচে পুঁতে রাখা সব নিউক্লিয়ার ধূলিকণা অপসারণ করবে।’ ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের গালিবাফ ট্রাম্পের এই অবস্থানকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনাকে ‘অযৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করেছেন।

রান্ডা স্লিম মনে করেন, বর্তমানে যুদ্ধবিরতি বলতে যা বোঝায় তা বাস্তবে কার্যকর নেই। এই পরিস্থিতিতে শনিবার দুই পক্ষ ইসলামাবাদে আলোচনায় বসতে পারবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ এ শেয়ার করুন

একই বিভাগের আরও সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২১ বাংলার মুখ বিডি
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট @ ইজি আইটি সল্যুশন