বাংলা রিপোর্ট//ঢাকার কেরানীগঞ্জের কদমতলীতে অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত গ্যাস লাইট কারখানা সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় হতাহত শ্রমিকদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
শনিবার (৪ এপ্রিল) শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলামের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
কারখানা পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী সরাসরি জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ছুটে যান। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন দগ্ধ শ্রমিকদের শয্যাপাশে কিছু সময় অতিবাহিত করেন এবং তাদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। তিনি আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের সহায়তায় বিশেষ তহবিল ঘোষণা করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের তহবিল থেকে নিহত প্রত্যেক শ্রমিকের পরিবারকে ২ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। আহত ও চিকিৎসাধীন প্রত্যেক শ্রমিককে চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও দায়ীদের চিহ্নিত করতে মন্ত্রী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তিনি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। কমিটিকে আগামী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসককেও এই ঘটনার বিষয়ে পৃথক একটি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করেন তিনি।
গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে জনাব আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “শ্রমিকদের কল্যাণে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও ভাগ্য উন্নয়নে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। কোনও শ্রমিকের জীবন যেন অবহেলার কারণে বিপন্ন না হয়, সে বিষয়ে আমরা কঠোর অবস্থান গ্রহণ করছি।”
পরিদর্শনকালে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।