1. masudkhan89@yahoo.com : admin :
  2. banglarmukhbd24@gmail.com : News Editor : News Editor
মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:১৮ অপরাহ্ন

ইইউ’র সঙ্গে শিগগিরই এফটিএ নিয়ে আলোচনার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

সাংবাদিক
  • আপডেট সময় : রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪ বার সংবাদ দেখেছেন

বাংলা রিপোর্ট//প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে শিগগিরই আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আগামী বছরগুলোতে বর্তমান শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশের বৃহত্তম রফতানি বাজারে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক প্রাধান্যগুলোর সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।

রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউরোপিয়ান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (ইউরোচ্যাম) চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধান উপদেষ্টা এ কথা বলেন। বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় তারা বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করার প্রয়োজনীয়তা, বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সুষ্ঠু বাণিজ্য সম্পর্ক নিশ্চিত করা এবং দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নে আরও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন।

তারা আসন্ন নির্বাচন এবং ভোট পর্যবেক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মোতায়েন নিয়েও আলোচনা করেন।

প্রফেসর ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সম্প্রতি জাপানের সঙ্গে একটি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সম্পাদন করেছে— যা বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতিতে ৭ হাজার ৩০০টিরও বেশি বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের পথ প্রশস্ত করেছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ অদূর ভবিষ্যতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে তার পণ্য বিশেষ করে তৈরি পোশাকের অব্যাহত শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গেও একই ধরনের আলোচনা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

তিনি বলেন, জাপানের সঙ্গে ইপিএ আমাদের জন্য দরজা খুলে দিয়েছে। আমাদের রফতানি পণ্যের ক্ষেত্রে নতুন আশা জাগিয়েছে। আমরা অবশ্যই আমাদের বাজার সম্প্রসারণের জন্য ইইউর সঙ্গে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সই করার আশা করছি।

ইউরোচ্যামের চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজ বলেন, বাংলাদেশকে জরুরি ভিত্তিতে এফটিএ আলোচনা শুরু করতে হবে। কারণ দেশটি স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ হওয়ার পর তার বৃহত্তম রফতানি গন্তব্য ইইউতে বিদ্যমান বাণিজ্য অগ্রাধিকার হারাতে পারে।

তিনি বলেন, এফটিএ বাংলাদেশে আরও ইউরোপীয় বিনিয়োগ আকৃষ্ট করবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং উন্নত পশ্চিমা বাজারে রফতানি বাড়াবে।

লোপেজ উল্লেখ করেন, ভারত ইইউ’র সঙ্গে একটি এফটিএ সই করছে, যখন ভিয়েতনাম ইতোমধ্যে এই জাতীয় চুক্তি করেছে— যা উভয় মধ্যম আয়ের দেশকে ইউরোপীয় বাজারে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুযোগ দেয়।

তিনি বলেন, আমরা এফটিএ’র পক্ষে কথা বলছি। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে আমি ইউরোপে যাবো।

ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক এলডিসি উত্তরণ হওয়ার পরে বিকশিত হবে, তবে তা ২০২৯ সালের আগে নয়।

তিনি প্রায় ২০০ মিলিয়ন জনসংখ্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজারের দেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তি আনতে ইইউর দৃঢ় আগ্রহের কথা তুলে ধরেন এবং ২০২৬ সালে একটি ইইউ- বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম আয়োজনের জন্য ইইউ প্রস্তুতির কথা জানান।

তিনি বলেন, আমরা প্রাথমিক রাজনৈতিক সদিচ্ছা খুঁজছি— যাতে ইইউ কোম্পানিগুলো আসতে উৎসাহিত হবে এবং একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড উপভোগ করবে।

প্রধান উপদেষ্টা কারখানা বাংলাদেশে স্থানান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিযোগিতামূলক খরচে দেশের দক্ষ শ্রমিকের বিশাল জনগোষ্ঠীর সুবিধা নিতে পারে।

তিনি বলেন, আমরা একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গড়ে তুলছি। আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশকে বৈশ্বিক ব্যবসার উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত করা। আমরা বাংলাদেশে আরও ইউরোপীয় বিনিয়োগ চাই।

প্রফেসর ইউনূস আসন্ন সাধারণ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য বাংলাদেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের একটি বড় দল মোতায়েনের ইইউ’র সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের এখানে থাকা গুরুত্বপূর্ণ। এটি আমাদের গণতন্ত্রকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য একটি বিশাল আস্থার ভোট।

তিনি বলেন, নির্বাচনি প্রচারণার সামগ্রিক চিত্রটি ‘খুব ইতিবাচক’।

এ সময় সরকারের এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদ উপস্থিত ছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগ এ শেয়ার করুন

একই বিভাগের আরও সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২১ বাংলার মুখ বিডি
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট @ ইজি আইটি সল্যুশন