আন্তর্জাতিক ডেস্ক.//জীববৈচিত্র্য রক্ষায় একটি যুগান্তকারী বৈশ্বিক চুক্তি শনিবার থেকে কার্যকর হয়েছে। জাতিসংঘের এই চুক্তি দেশগুলোকে অতিরিক্ত মাছ ধরা সহ বিভিন্ন হুমকি মোকাবিলায় একটি আইনগত কাঠামো দেবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে মহাসাগরের ৩০ শতাংশ এলাকা সুরক্ষার লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও চুক্তির প্রস্তুতি কমিটির সহ-সভাপতি অ্যাডাম ম্যাকার্থি এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেছেন, এই চুক্তির আওতায় প্রথমবারের মতো মহাসাগরের দুই-তৃতীয়াংশ এবং পৃথিবীর মোট পৃষ্ঠের প্রায় অর্ধেক অংশ একটি পূর্ণাঙ্গ আইনগত কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
জাতিসংঘের এই চুক্তিটি বায়োডাইভারসিটি বিয়ন্ড ন্যাশনাল জুরিসডিকশন (বিবিএনজে) নামে পরিচিত। এই চুক্তিটি ১৫ বছরের দীর্ঘ আলোচনার পর ২০২৩ সালের মার্চে চূড়ান্ত হয়। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকা বিশাল ও এতদিন প্রায় অনিয়ন্ত্রিত সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রে একটি বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা যাবে, যেখানে থাকবে মেরিন প্রোটেক্টেড এরিয়া বা সুরক্ষিত সামুদ্রিক অঞ্চল।
গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর ৬০টি দেশ চুক্তিটি অনুমোদন দেওয়ায় ১২০ দিনের মধ্যে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ার পথ তৈরি হয়। এরপর থেকে অনুমোদনকারী দেশের সংখ্যা বেড়ে ৮০টিরও বেশি হয়েছে, যার মধ্যে চীন, ব্রাজিল ও জাপান রয়েছে।
ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশ শিগগিরই চুক্তিটি অনুমোদন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করলেও আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেয়নি।
চুক্তি অনুযায়ী, যেকোনো দেশকে সামুদ্রিক কর্মকাণ্ড শুরুর আগে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন করতে হবে, যাতে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব যাচাই করা যায়। পাশাপাশি, ব্লু ইকোনমি থেকে অর্জিত সুবিধা, বিশেষ করে বায়োটেকনোলজির মতো খাতে ব্যবহৃত ‘মেরিন জেনেটিক রিসোর্স’ দেশগুলোর মধ্যে ন্যায্যভাবে ভাগাভাগির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
পরিবেশবাদীদের মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে মহাসাগরের ৩০ শতাংশ এলাকা সুরক্ষার লক্ষ্যে পৌঁছাতে অন্তত ১ লাখ ৯০ হাজারের বেশি সুরক্ষিত সামুদ্রিক অঞ্চল ঘোষণা করতে হবে। বর্তমানে মহাসাগরের মাত্র প্রায় ৮ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ২ কোটি ৯০ লাখ বর্গকিলোমিটার এলাকা সুরক্ষার আওতায় রয়েছে। তবে সামুদ্রিক পরিবেশের বড় হুমকি হিসেবে ধরা সমুদ্রতল থেকে খনিজ উত্তোলন চুক্তিটির প্রভাব সীমিত হতে পারে বলে কিছু পরিবেশ সংরক্ষণবাদী মনে করছেন।