আন্তর্জাতিক ডেস্ক//মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার (৭ জানুয়ারি) ঘোষণা দিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার ভিত্তি হিসেবে পরিচিত একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করা হচ্ছে। প্রায় ৩৪ বছর ধরে এই চুক্তি কার্যকর রয়েছে। বিশ্বের প্রায় সব দেশই এর সদস্য। ব্রিটিশ দৈনিক পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে।
হোয়াইট হাউজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি প্রেসিডেনশিয়াল মেমোরেন্ডামে সই করেছেন, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে জলবায়ু চুক্তিসহ মোট ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও চুক্তি থেকে বের করে আনা হচ্ছে। এসব সংস্থা ও চুক্তি নাকি আর যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে কাজ করছে না। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেকই জাতিসংঘ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বিবৃতিতে বলেছেন, শান্তি ও সহযোগিতার জন্য গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক কাঠামো এখন এক ধরনের বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। যা প্রগতিশীল আদর্শে প্রভাবিত এবং জাতীয় স্বার্থ থেকে বিচ্ছিন্ন করে।
উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘের জলবায়ু কাঠামো চুক্তি (জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন) থেকেই ২০১৬ সালের প্যারিস চুক্তির জন্ম হয়। যার লক্ষ্য বৈশ্বিক তাপমাত্রা তুলনামূলক নিরাপদ মাত্রায় সীমিত রাখা।
ট্রাম্প প্রশাসন আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের শীর্ষ জলবায়ু বিজ্ঞান সংস্থা ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি) থেকেও সরে দাঁড়াবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংস্থা, ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্স এবং ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারসহ একাধিক পরিবেশবাদী সংস্থা থেকেও যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে যাচ্ছে।
দ্য গার্ডিয়ানের সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে, এ সিদ্ধান্ত জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কার্যত বিশ্ব থেকে আরও বিচ্ছিন্ন করে দেবে। একই সঙ্গে এটি বৈশ্বিক কূটনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা থেকে সরে আসার স্পষ্ট ইঙ্গিত। পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জিন গ্যালব্রেইথ বলেছেন, এটি বিশ্ববাসীর কাছে যুক্তরাষ্ট্রের জলবায়ু নীতির প্রতি চরম অবজ্ঞার একটি বড় বার্তা।
হোয়াইট হাউজের সাবেক জলবায়ু উপদেষ্টা জিনা ম্যাকার্থি এই সিদ্ধান্তকে স্বল্পদৃষ্টিসম্পন্ন, বিব্রতকর ও বোকামিপূর্ণ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, এতে করে যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দশকের বৈশ্বিক সহযোগিতা নষ্ট করছে এবং বিপুল বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সুযোগ হারাচ্ছে।
দ্য গার্ডিয়ানের সংবাদে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে প্যারিস চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে ২০ জানুয়ারি। যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘে নোটিশ দিলে চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে এক বছর সময় লাগবে। এরপর যুক্তরাষ্ট্র আর ২০০ দেশের সঙ্গে বার্ষিক জলবায়ু আলোচনায় অংশ নিতে পারবে না।
অন্যদিকে, জলবায়ু ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে চীন দ্রুত আধিপত্য বিস্তার করছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশগুলো যেমন, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।
মার্কিন জলবায়ু দূত জন কেরি বলেন, এই প্রত্যাহার চীনের জন্য উপহার এবং দূষণকারীদের জন্য দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ তৈরি করবে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প সব আন্তর্জাতিক চুক্তি ও সংস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দেন। সেই পর্যালোচনার সময়সীমা শেষ হয় গত আগস্টে। এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া আর কোনও দেশ প্যারিস চুক্তি থেকে সরে আসেনি।