আন্তর্জাতিক ডেস্ক//সম্প্রতি তাইওয়ানকে ঘিরে পরিচালিত চীনের সামরিক মহড়া ছিল তাইওয়ানের প্রতি বাড়তে থাকা আন্তর্জাতিক সমর্থন খর্ব করার একটি কৌশলগত প্রচেষ্টা। বুধবার (৭ জানুয়ারি) এমনটাই দাবি করেছে তাইওয়ানের শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থা ন্যাশনাল সিকিউরিটি ব্যুরো (এনএসবি)। এই মহড়ার মাধ্যমে বেইজিং তাদের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট ও সামাজিক অস্থিরতা থেকে জনগণের দৃষ্টি সরাতে চেয়েছে বলেও দাবি করেছে তাইপে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
এনএসবি পার্লামেন্টে পেশ করা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জাস্টিস মিশন ২০২৫ নামে মহড়ার মাধ্যমে চীন তাইওয়ানের পক্ষে অবস্থান নেওয়া গণতান্ত্রিক দেশগুলোর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পরিসরে বার্তা দিতে চেয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, চীন সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি একটি হাইব্রিড যুদ্ধ কৌশল গ্রহণ করেছে, যার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের গণতান্ত্রিক দেশগুলো প্রতিরোধ গড়ে তুলছে।
রয়টার্সের সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে, এই মহড়া ছিল চীনের ইতিহাসে ভৌগোলিক দিক থেকে সবচেয়ে বড়। এটি চীনের ভেতরে অর্থনৈতিক ব্যর্থতা ও সামাজিক অস্থিরতা নিয়ে অসন্তোষকে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী আবেগে রূপ দেওয়ার চেষ্টা। মহড়ার অংশ হিসেবে চীন তাইওয়ানের দিকে ডজনখানেক রকেট নিক্ষেপ করে এবং দ্বীপটির আশপাশে বিপুলসংখ্যক যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক বিমান মোতায়েন করে। ফলে তাইওয়ানের অভ্যন্তরীণ বহু ফ্লাইট বাতিল হয় এবং অঞ্চলটি নিয়ে পশ্চিমা দেশ ও আঞ্চলিক মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।
অপর দিকে,জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির এক বিবৃতে বলেছেন, চীন যদি তাইওয়ানে হামলা চালায়, তা জাপানের জন্য অস্তিত্বগত হুমকি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তাইওয়ান প্রণালির নিরাপত্তা যে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত, এই বিবৃতি সেটিরই প্রতিফলন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রয়টার্সের সংবাদে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চীন তাইওয়ান বিষয়ক প্রতিবেদনের বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়। কিন্তু নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তারা দাবি করেছে, সাম্প্রতিক সামরিক মহড়াগুলোর উদ্দেশ্য ছিল জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা।