ওয়াহিদুজ্জামান ঃ ঠিক এই স্টাইল দেখেছিলাম হাসিনা সরকার পতনের শেষ সময়ে। মন্ত্রণালয় দপ্তরগুলো নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছিল। কাদের যেন মাস্তানি চলতো। বিনা কারণে সাধারণ দর্শনার্থীদের হেনস্থা করা হত। কি যেন আতংকে রোজিনার মত সাংবাদিককে গুরুতর কোন কারণ ছাড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছিল। এখনো মনে হয় বাইরের কিছু মব ও মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মচারী যৌথভাবে মন্ত্রণালয় দপ্তরগুলোতে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করে রেখেছে। কেন যেন তারা পরিস্থিতি বেসামাল করতে চাচ্ছে।
কয়েকদিন আগে গিয়েছিলাম মন্ত্রণালয়ের এক সচিব দপ্তরে। দর্শনার্থী হয়ে পিএস এর রুমে বসে ছিলাম। এক সহজ সরল গ্ৰামের লোক এসেছেন সুদুর সুনামগঞ্জ থেকে একটা কাজে। সচিব মহোদয়ের সাথে দেখাও করলেন। সচিব মহোদয় বলেদিলেন পিএসকে ব্যবস্থা নিতে। লোকটি পিএস এর রুমে বসে অপেক্ষা করতে লাগলেন। পিএস সাহেব সচিব রুমে ঢুকে বের হয় আবার ঢুকে। কিন্তু তার সাথে কোন কথা হয়না। এইভাবে একটু কথা বলার জন্য প্রায় ৪ ঘন্টা বসে রইলেন। একসময় অপেক্ষা করতে করতে অস্থির হয়ে আবার সচিব রুমে সচিব মহোদয়ের সাথে দেখা করার চেষ্টা করলেন। এবার ঢুকার অনুমতি না নিয়ে সরাসরি ঢুকতে চাইলেন। সেই অপরাধে পিএস স্টাফরা তাঁকে মব স্টাইলে নির্লজ্জ নাজেহাল করল। অথচ তাঁকে ছোট একটু কথা বলে বিদায় করা যেত।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে দেখছি একই অবস্থা। সাধারণ মানুষ দিনের পর দিন ঘুরছে একইভাবে ভোগান্তিতে পড়েছে। অথচ কারা যেন রাতারাতি কাজ করিয়ে নিচ্ছে। তাদের কাজ করতে মন্ত্রণালয়ের লোকজনের ঘুম হারাম। তারা আসছে যাচ্ছে কোন বাধা নেই। তারা এলে দপ্তরগুলো গরম হয়ে উঠে। এরা কারা আমি জানি না। প্রধান উপদেষ্টা হয়তো জানতে পারেন। আমি শুধু বলব , এইসকল কর্মকাণ্ড সরকারের ভাবমূর্তিকে চরম ক্ষতির মুখে ঢেলে দেয়। সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।